নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আয়োজিত একটি জনসভায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারি ও বেসরকারি স্তরে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এমপি। তিনি বলেছেন, "ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে সবাইকে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।" শুধুমাত্র ওষুধ বা কীটনাশক প্রয়োগে এই রোগ প্রতিরোধ সম্ভব নয়; ব্যক্তি, পরিবার, স্থানীয় প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিসহ সকলের সম্মিলিত চেষ্টা জরুরি উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং বাড়িঘর, ছাদ, ড্রেন ও নালায় জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ভুলতা পাড়াগাঁও ঈদগাহ মাঠে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও মাছের পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে মন্ত্রী জানান, সরকার ডেঙ্গু মোকাবিলায় চিকিৎসা প্রস্তুতির পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ১০ শতাংশ শয্যা সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরীক্ষার ব্যয়ে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পর্যায়ক্রমে ৫০ শয্যা থেকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি। স্থানীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান দিপুর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, "সরকার স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের আরও কাছে নিয়ে যেতে চায়। এজন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো হবে। শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।"
অনুষ্ঠানে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, দেশে বিপুলসংখ্যক শিশুকে ইতোমধ্যে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে হাম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় আবারও বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলমান বিশেষ টিকাদান কর্মসূচিতে ১ কোটি ৭২ লাখ ৬৮ হাজার ৯০৮ শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৬ শতাংশ।
মন্ত্রী জানান, হাম প্রতিরোধে প্রায় ৪ কোটি টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে দেশে দ্বিতীয় দফায় বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হবে। তিনি সচেতন করে বলেন, "শুধু টিকা দিলেই হবে না; শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করাও জরুরি। পুষ্টিহীনতার কারণে হাম আক্রান্ত শিশুদের জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই টিকাদানের পাশাপাশি শিশুদের পুষ্টি, পরিচর্যা ও দ্রুত চিকিৎসার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।"
স্থানীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভুইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ এবং নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজিব। অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী, চিকিৎসক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।