এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণে ফলাফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীদের তথ্য এখন একাদশ শ্রেণির ভর্তি পোর্টালে (xiclassadmission.gov.bd) যুক্ত হয়েছে। গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বোর্ড এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পুনর্নিরীক্ষণের মাধ্যমে যেসব শিক্ষার্থীর ফলাফলে পরিবর্তন এসেছে, তাঁরা ইতিমধ্যে আবেদন না করলে নতুন করে আবেদন করতে পারবেন। অথবা, আগে আবেদন করে থাকলে তাতে সংশোধনী এনে পুনর্নিরীক্ষিত ফল অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন। এবার একাদশ শ্রেণি ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু হয়েছে এবং এটি চলবে ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত। যদিও সাধারণ মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তবে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদন ব্যর্থ হওয়া শিক্ষার্থীরাও এই সর্বশেষ সময়সীমার মধ্যে আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
আবেদনের পাশাপাশি, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দের কলেজ বা প্রতিষ্ঠানের ক্রম পরিবর্তনের (Preference Change) সুযোগ পাবেন। ভর্তি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা অনুসরণ করে আবেদন করতে হবে। নীতিমালা অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে পারবেন। এর জন্য আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২২০ টাকা।
আবেদন শুরুর আগে শিক্ষার্থীদের কিছু জরুরি তথ্য হাতের কাছে রাখা আবশ্যক। সেগুলো হলো: এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, শিক্ষা বোর্ডের নাম, পাসের বছর, সচল মোবাইল নম্বর, পছন্দের কলেজগুলোর তালিকা এবং যে বিভাগে ভর্তি হতে চান তার বিস্তারিত তথ্য। আবেদন জমা দেওয়ার আগে ব্যক্তিগত ও পরীক্ষার তথ্য সঠিক আছে কিনা তা ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভর্তি নীতিমালায় স্পষ্ট করা হয়েছে, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য কোনো বাছাই বা লিখিত পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে না। ভর্তি সম্পূর্ণভাবে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে হবে। আসনের ৭ শতাংশ কোটায় সংরক্ষিত থাকবে, বাকি ৯৩ শতাংশ আসন মেধার ভিত্তিতে সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
২ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুনর্নিরীক্ষণ বা পুনর্মূল্যায়নের ফল পাওয়া শিক্ষার্থীরাও আবেদনের আওতায় থাকবেন। ১২ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর রাত আটটা পর্যন্ত এই শিক্ষার্থীদের আবেদন গ্রহণ করা হবে এবং পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশিত হবে ১৭ সেপ্টেম্বর রাত আটটায়। এরপর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চিত করতে ১৯ সেপ্টেম্বর রাত আটটা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চয়ন না করলে আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে। একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম চলবে ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, আর ক্লাস শুরু হবে ২৩ সেপ্টেম্বর।
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য নতুন কোটা ব্যবস্থায়, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৯৩ শতাংশ আসন মেধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত থাকবে। অবশিষ্ট ৭ শতাংশ আসনের মধ্যে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যাদের এবং ২ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র বা গেজেটের সত্যায়িত কপি দিতে হবে এবং ভর্তির সময় মূল কপি দেখাতে হবে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ইস্যুকৃত সনদ যাচাই করে ভর্তি সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যা না পেলে ওই আসন খালি রাখা যাবে না; মেধাতালিকা থেকে ওই আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করতে হবে।
অন্যদিকে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ এবং মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর বা সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রয়েছে। এই কোটার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীর দপ্তরপ্রধানের প্রত্যয়নপত্র দিতে হবে। আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হলে সংশ্লিষ্ট কোটার প্রার্থীদের মধ্যেই মেধার ভিত্তিতে ভর্তি করা হবে।
সমান জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে। বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে গ্রেড পয়েন্ট ও প্রাপ্ত নম্বর সমতুল্য করে হিসাব করতে হবে। বিভিন্ন সালের গ্রেড পয়েন্ট ও প্রাপ্ত নম্বরও সমতুল্য করে হিসাব করতে হবে।
বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে সমান মোট নম্বরপ্রাপ্তদের মেধাক্রম নির্ধারণে সাধারণ গণিত ও উচ্চতর গণিত/জীববিজ্ঞানে প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনায় আনা হবে। যদি জটিলতা নিরসন না হয়, তবে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নে প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনায় আনা হবে। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ক্ষেত্রে সমান মোট নম্বর বিষয়টি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে ইংরেজি, গণিত ও বাংলা বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনায় আনা হবে। এক বিভাগের প্রার্থী অন্য বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে জিপিএ একই হলে সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে।