চট্টগ্রামের খুলশী এলাকার একটি ভবন থেকে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে আটক ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে তাদের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-২ মুহাম্মাদ আবুল মনছুরের আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে এই আদেশ দেওয়া হয়।
খুলশী থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ২১, ২২, ২৪ ও ২৭ ধারায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, কড়া নিরাপত্তায় দুটি পৃথক প্রিজন ভ্যানে করে তাদের চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। সিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (সদর) আমিনুর রশিদ জানান, "আদালত শুনানি শেষে ৬৩ জনকে সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।"
পুলিশি সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে খুলশী থানা ও নগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের এক যৌথ অভিযানে ওই বহুতল ভবন থেকে তাদের আটক করা হয়। অভিযানে ১৩৪টি মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা আলামত থেকে পুলিশ ধারণা করছে, সেখানে একটি অত্যাধুনিক ‘ডিজিটাল ল্যাব’ গড়ে তুলে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সাইবার অপরাধ চালানো হচ্ছিল।
আটককৃতদের মধ্যে লাওসের ৩৫ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের পাঁচজন, নেপালের একজন ও ভিয়েতনামের একজন নাগরিক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪২ জন পুরুষ, ২০ জন নারী এবং একটি শিশু রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভবনটির মালিক একজন প্রবাসী এবং প্রায় দেড় মাস আগে বিদেশি নাগরিকরা এটি ভাড়া নিয়েছিলেন।
সিএমপি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ফয়সাল আহমেদ বলেন, "চীন, লাওস, কম্বোডিয়াসহ বিভিন্ন দেশে অনলাইন প্রতারণার বিরুদ্ধে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক অভিযান চলছে। এ কারণে প্রতারকরা বাংলাদেশকে বেছে নিয়েছে বলে পুলিশের ধারণা। তাদের দেশি-বিদেশি সহযোগী রয়েছে এবং চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তারা অবস্থান করছে। প্রাথমিকভাবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়নি।"
তিনি আরও জানান, জব্দ করা ডিভাইসগুলো ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে। আটক ব্যক্তিদের কারও কাছেই পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি। পুলিশের ধারণা, সব পাসপোর্ট একজনের কাছে রাখা হয়েছে। ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে পাসপোর্টগুলো উদ্ধার করা গেলে তারা কীভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন তা জানা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে কক্সবাজার শহরের একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে ৬ বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে পাঁচজন চীনের ও একজন তাইওয়ানের নাগরিক। রামু থানায় করা একটি অভিযোগ ও ঢাকার পুলিশের তথ্যের ভিত্তিতে ওই অভিযান চালানো হয়, যেখান থেকে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন ও ৪০টি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়। আদালত ওই ৬ জনকেও কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।