ফুটবল মাঠে বিপদ ঠেকানোই তাঁর কাজ। ২৪ ফুট চওড়া ও ৮ ফুট উঁচু গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষের শট বাঁধা, দুর্দান্ত সেভে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়া—এগুলো তাঁর পেশাদার জীবনের অংশ। কিন্তু জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর এক রাতে সেই গোলরক্ষক ছিলেন সম্পূর্ণ অসহায়। তিনি জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা, ২০২১ ইউরোজয়ী ইতালির গোলরক্ষক। পিএসজির হয়ে খেলার সময় ২০২৩ সালের এক রাতে প্যারিসের নিজ বাড়িতে ভয়াবহ ডাকাতির শিকার হন তিনি ও তাঁর সঙ্গী আলেসিয়া এলেফান্তে। তিন বছর পর সেই রাতের আতঙ্কের গল্প আদালতে তুলে ধরেছেন এই দুজন।

ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৩ সালের ২১ জুলাই রাত ২টা ৫২ মিনিটে। চার মুখোশধারী ডাকাত একটি মই বেয়ে ভবনের ছাদে ওঠে এবং বারান্দা দিয়ে জানালা ভেঙে দোন্নারুম্মার ঘরে প্রবেশ করে। ঘুম ভেঙে চোখ মেলতেই সামনে মুখোশধারীকে দেখে অবাক হন তিনি। কী ঘটছে তা বুঝে ওঠার আগেই শুরু হয় মারধর। তাঁর দিকে ছুরি তাক করা হয়। পেছন থেকে আরও দুজন চিৎকার করে জানতে চায় দামি ঘড়ি ও মূল্যবান জিনিস কোথায় রাখা আছে। ভয়ে দোন্নারুম্মা ড্রেসারের ওপর রাখা একটি ঘড়ির দিকে ইঙ্গিত করেন, কিন্তু ডাকাতরা থামেনি।

এরপর এলেফান্তেকে বেঁধে ফেলা হয়। টাকা, ঘড়ি ও গয়নার দাবি জানানো হয়। বাধ্য হয়ে এলেফান্তে প্রায় ১২ হাজার রিয়াল সমপরিমাণ নগদ অর্থ, একটি মূল্যবান ঘড়ি এবং বেশ কিছু গয়না ডাকাতদের হাতে তুলে দেন। এরপর আলমারির গোপন কোড জানতে চান ডাকাতরা। এলেফান্তে জানান তিনি কোড জানেন না এবং আলমারিতে মূল্যবান কিছু নেই। এই জবাবে ক্ষিপ্ত ডাকাত দল এলেফান্তের চুল টেনে ধরে এবং পায়ে আঘাত করে। ভয় ও যন্ত্রণায় এলেফান্তে জানান তিনি অন্তঃসত্ত্বা, কিন্তু হামলা থামেনি।

ঘটনার তিন বছর পর রাতের ঘটনা উঠে এসেছে দোন্নারুম্মা ও এলেফান্তের আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপ জানিয়েছে, বর্তমানে প্যারিসের একটি আদালতে ওই ডাকাতির মামলার শুনানি চলছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুই দফায় শুনানি হয়েছে। এতে অভিযুক্ত আসামি তিনজন। তাঁদের মধ্যে ইলিয়াস খেরবুশ ওরফে ‘গানিতো’ এবং খিয়ান মামুনি ওরফে ‘কিকি’ নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে অন্য আসামি ২৪ বছর বয়সী মোকতার দিয়োপ ডাকাতিতে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। যদিও দোন্নারুম্মা ও এলেফান্তের ওপর হামলায় তিনি জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করেছেন।

এই ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করা আরেক ব্যক্তি ২০২৪ সালে কারাগারেই মারা যান। ঘটনার সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকা আরও দুজনকে এরই মধ্যে শিশু আদালতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে তাঁদের একজনকে তিন বছর এবং অন্যজনকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আদালতে মামলার শুনানি ছিল উত্তেজনাময়। খেরবুশ ও মামুনি পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাঁদের আদালতকক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনা এতটাই বেড়ে যায় যে শুনানি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। দোন্নারুম্মা বর্তমানে ম্যানচেস্টার সিটিতে খেলেন।