মায়ের শেষকৃত্যানুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য শর্তসাপেক্ষে পাঁচ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন আন্তর্জাতিক শ্রীকৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) সাবেক সংগঠক ও সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পাঁচ ঘণ্টার জন্য চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের প্যারোল মঞ্জুর করা হয়েছে।
বন্দির এই সাময়িক মুক্তি উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ জানান, কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সেজন্য পুণ্ডরীক ধাম এলাকায় অতিরিক্ত রিজার্ভ ফোর্সসহ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের যৌথ সমন্বয়ে বন্দিকে আনা-নেওয়ার পথে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
এর আগে অসুস্থ মা সন্ধ্যা রাণী ধরকে (৭১) দেখার জন্য চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পরিবার প্যারোলের আবেদন জানালেও, জীবিত থাকা অবস্থায় স্বজনকে দেখার জন্য আইনি সুযোগ না থাকায় প্রশাসন তা নাকচ করে দিয়েছিল।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা রাণী ধর ক্যানসার, ফুসফুসে সংক্রমণ ও নিম্ন রক্তচাপসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন এবং আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী বুধবার রাতে তাকে হাটহাজারী উপজেলার মেখল গ্রামে অবস্থিত শ্রীশ্রী পুণ্ডরীক ধাম আশ্রমে নেওয়া হয়। সেখানে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার হন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলাসহ মোট ৬টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৫টি মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেও আইনজীবী হত্যা মামলার বিচার চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে চলমান থাকায় তিনি কারাগারে বন্দি ছিলেন।