ইংল্যান্ড সফরে থাকা পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পোর্টসমাউথের একটি হোটেলের সামনে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভকারীরা জড়ো হন, ভুলবশত তাদেরকে শরণার্থী মনে করে। পরে বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ার পর বিক্ষোভকারীরা সরে যান।
শহরের ম্যারিয়ট হোটেলে অবস্থানরত পাকিস্তানের যুব দলের সদস্যদের নিয়ে এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবরে দাবি করা হয় যে, হোটেলের সামনে দেখা কোচ ও এশীয় তরুণদের শরণার্থী হিসেবে রাখা হয়েছে। এরপর মুখ ঢাকা অবস্থায় প্রায় ৩০ থেকে ৫০ জন বিক্ষোভকারী হোটেলের সামনে জড়ো হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হ্যাম্পশায়ার কাউন্টি কাউন্সিলের রিফর্ম ইউকে কাউন্সিলর জর্জ ম্যাডগউইক ঘটনাস্থলে যান। তিনি হোটেল কর্তৃপক্ষ এবং পাকিস্তান দলের কোচের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হন যে, সেখানে থাকা ব্যক্তিরা কোনো শরণার্থী নন, বরং পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটার ও সংশ্লিষ্ট সদস্য। হোটেল কর্তৃপক্ষ তাকে এর প্রমাণও দেখায়।
এরপর বাইরে অপেক্ষমাণ লোকজনকে ম্যাডগউইক জানান, ‘আপনারা ভুল বুঝেছেন, এটা ক্রিকেট দল।’ বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ার পর কয়েক মিনিটের মধ্যেই সবাই সেখান থেকে চলে যান। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টেও তিনি হোটেলটিতে শরণার্থী থাকার খবর ভুল বলে জানান।
ব্রিটিশ পুলিশের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত লোকজনের সঙ্গে কথা বলে তাদের ধারণা ভুল বলে বুঝিয়ে দেন। ওই ঘটনায় কোনো অপরাধ শনাক্ত হয়নি।
ঘটনার পেছনে ছিল পোর্টসমাউথের সাম্প্রতিক অভিবাসনবিরোধী উত্তেজনা। এর কয়েক দিন আগেই ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে আসা শরণার্থীদের নিয়ে শহরে বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছিল। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই পাকিস্তান দলের কোচে করে হোটেলে পৌঁছানোর ছবি ছড়িয়ে পড়লে নতুন করে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
ঘটনার পর পাকিস্তান যুব দলের সদস্যদের নিরাপত্তার বিষয়েও খোঁজ নিয়েছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড। বাকি সফরের নিরাপত্তাব্যবস্থাও পর্যালোচনা করছে তারা। পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দল বর্তমানে ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে সিরিজ খেলতে দেশটিতে অবস্থান করছে।