গণিত, বিজ্ঞান এবং পড়ার দক্ষতা মূল্যায়নে এশীয় দেশগুলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এগিয়ে রয়েছে। অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (ওসিডি) পরিচালিত আন্তর্জাতিক শিক্ষা মূল্যায়ন কর্মসূচি 'পিআইএসএ'-তে (PISA) সর্বোচ্চ স্কোর করে বিশ্বসেরা হয়েছে সিঙ্গাপুর। এরপরই রয়েছে চীন, জাপান ও তাইওয়ান। শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর এই তালিকায় এশিয়ার শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করেছে।

বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের একই মানদণ্ডে মূল্যায়ন করার কারণে পিআইএসএকে আন্তর্জাতিক শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তুলনামূলক মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রতি তিন বছর পরপর ৮০টির বেশি দেশ ও অর্থনীতিতে এই মূল্যায়ন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধানত গণিত, বিজ্ঞান ও পড়ার দক্ষতা যাচাই করা হয়। পিআইএসএ শুধু পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু মুখস্থ করার সক্ষমতা নয়, বরং অর্জিত জ্ঞান বাস্তব পরিস্থিতিতে প্রয়োগ ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দেয়।

ওসিডি পরিচালিত এই আন্তর্জাতিক শিক্ষা মূল্যায়ন কর্মসূচিতে ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা বাস্তব জীবনের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তাদের অর্জিত জ্ঞান কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে পারে, তা যাচাই করা হয়। ওসিডি বিশ্বজুড়ে ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক স্কুল পরীক্ষার (পিআইএসএ) ফলাফল প্রকাশ করে। ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী গণিত, পড়ার দক্ষতা (রিডিং) এবং বিজ্ঞানের নম্বর বা স্কোর বেশ কমে গেছে। মহামারির ঠিক পরপরই অনুষ্ঠিত আগের ধাপের পরীক্ষায় গণিত, রিডিং এবং বিজ্ঞানের নম্বর (স্কোর) এখন বেশ কম।

স্কুলে শিক্ষার্থীদের এ অবস্থার পেছনে দীর্ঘমেয়াদি কিছু কারণ রয়েছে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা আরও তলানিতে গিয়ে ঠেকতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ওসিডির ‘পিআইএসএ’ প্রকল্পটি তরুণদের বাধ্যতামূলক স্কুলজীবন শেষ করার দ্বারপ্রান্তে তাদের যোগ্যতা পরিমাপ করে। প্রতিবছর এতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষাব্যবস্থার সংখ্যা বেড়েছে। তবে পুরো চিত্র পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি পতনের গল্প। কারণ ওসিডি বলছে, এই তরুণেরা সহজ কোনো লেখা বুঝতে বা ইউটিলিটি বিলের হিসাব মেলাতেই হিমশিম খেতে হবে।

২০০০ সালের পর প্রায় প্রতিবারের মতো এবারও তালিকায় এশিয়ার শিক্ষাব্যবস্থাগুলো শীর্ষে রয়েছে। স্কোরের হিসাবে পিআইএসএতে শীর্ষে রয়েছে সিঙ্গাপুর। দেশটির স্কোর ১ হাজার ৬৭৯। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চীনের স্কোর ১ হাজার ৬০৫। জাপান ও তাইওয়ান উভয়ের স্কোর ১ হাজার ৫৯৯।

শীর্ষ ১০–এর পরের দেশগুলো হলো দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং, এস্তোনিয়া, কানাডা, আয়ারল্যান্ড ও সুইজারল্যান্ড। তাদের মোট স্কোর যথাক্রমে ১ হাজার ৫৭০, ১ হাজার ৫৬০, ১ হাজার ৫৪৭, ১ হাজার ৫১৯, ১ হাজার ৫১২ এবং ১ হাজার ৪৯৪।

অর্থাৎ মোট স্কোরের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় এশিয়ার পাঁচটি দেশ বা অর্থনীতি রয়েছে—সিঙ্গাপুর, চীন, জাপান, তাইওয়ান ও দক্ষিণ কোরিয়া। এ ছাড়া হংকংও তালিকায় রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের পড়ার দক্ষতার স্কোর সর্বশেষ বৈশ্বিক মূল্যায়নে প্রায় ২৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। ২০২২ সালের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীদের স্কোর ১৪ পয়েন্ট কমেছে। দেশটির মোট স্কোর ১ হাজার ৪৬৮, যা শীর্ষ ১০–এর শেষ দেশ সুইজারল্যান্ডের চেয়ে ২৬ কম।

পিআইএসএর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শীর্ষস্থানীয় দেশগুলো গণিত, বিজ্ঞান ও পড়ার দক্ষতায় তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী ফল করেছে। এসব ফল শিক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং শিক্ষার্থীদের বাস্তব পরিস্থিতিতে জ্ঞান প্রয়োগের সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।

*পূর্ণাঙ্গ তালিকাসহ বিস্তারিত দেখতে https://worldpopulationreview.com / ওয়েবসাইটে ক্লিক করুন।