বিশ্বকাপের তিক্ত স্মৃতি পেছনে ফেলে নতুন প্রজন্মের একটি শক্তিশালী দল গড়ার পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন কার্লো আনচেলত্তি। সেই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বছরের শেষ দুটি প্রীতি ম্যাচের জন্য ২৬ সদস্যের একটি দল ঘোষণা করেছেন ব্রাজিল কোচ। জাপান ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে অনুষ্ঠেয় এই ম্যাচগুলোর জন্য ঘোষিত দলে প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছেন পাঁচজন ফুটবলার। তরুণ খেলোয়াড়দের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিলেও আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া, এনদ্রিক এবং এস্তেভাওয়ের মতো পরিচিত ও তারকা মুখগুলো বহাল রাখা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রিও ডি জেনিরোতে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে এই দল ঘোষণা করেন আনচেলত্তি। আগামী ১৪ নভেম্বর জাপানের মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, আর ১৭ নভেম্বর তারা খেলবে স্বাগতিক সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে। উল্লেখ্য, এই দুটি ম্যাচই সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। এর মাধ্যমেই ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক ফুটবল সূচির সমাপ্তি ঘটবে ব্রাজিলের জন্য।

এবারের দলSelections-এর সবচেয়ে বড় চমক হলো পাঁচজন নতুন সদস্যের অন্তর্ভুক্তি। জাতীয় দলের জার্সিতে প্রথমবারের মতো সুযোগ পেয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির অ্যালান, করিন্থিয়ান্সের আন্দ্রে লুইজ, ক্রুজেইরোর জনাথন জেসুস এবং শাখতার দোনেৎস্কের মারলন গোমেস ও আলিসন সান্তানা। এই নতুন ফুটবলারদের সক্ষমতা যাচাই করার পাশাপাশি ২০২৮ সালের কোপা আমেরিকা এবং ২০৩০ বিশ্বকাপের জন্য একটি মজবুত দল গঠন করতে চান আনচেলত্তি।

তরুণদের প্রতি কোচের আস্থার বিষয়টি এবারের দল গঠনেও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। ঘোষিত ২৬ সদস্যের দলের মধ্যে ১৫ জনের বয়স ২৩ বছরের কম। এছাড়া আরও নয়জন ফুটবলার অলিম্পিকে খেলার বয়সসীমার মধ্যে রয়েছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলের গড় বয়স ছিল ২৯ দশমিক ৬ বছর। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের আন্তর্জাতিক বিরতিতে এই গড় কমে হয়েছিল ২৪ দশমিক ৬ বছর। আর বর্তমান ঘোষিত দলে সেই গড় আরও হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ দশমিক ৬ বছরে।

দল ঘোষণার পর কার্লো আনচেলত্তি জানান, ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই তরুণদের এই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলার জন্য এখনই সবচেয়ে উপযুক্ত সময় বলে মনে করেন তিনি। জনাথন জেসুসকে একজন শক্তিশালী ও দ্রুতগতির ডিফেন্ডার হিসেবে প্রশংসা করেছেন ব্রাজিল কোচ। অন্যদিকে, মাঝমাঠে মারলন গোমেসের গতিশীলতাও তার নজর কেড়েছে।

এবারের দল নির্বাচনে ব্রাজিলের ঘরোয়া ফুটবলের বর্তমান পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। দেশটির শীর্ষ লিগে শিরোপার লড়াইয়ে ব্যস্ত ফ্লামেঙ্গো ও পালমেইরাসের কোনো ফুটবলারকে দলে ডাকেননি আনচেলত্তি। অন্যান্য ব্রাজিলিয়ান ক্লাবগুলো থেকেও সর্বোচ্চ একজন করে খেলোয়াড় নেওয়া হয়েছে। সিবিএফের জাতীয় দলের পরিচালক রদ্রিগো কায়েতানো জানিয়েছেন, মৌসুমের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ক্লাবগুলোর ক্ষতি এড়াতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ঘরোয়া লিগ থেকে মোট ছয় ফুটবলার দলে জায়গা পেয়েছেন।

২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পর থেকেই নতুন প্রজন্মের দল গঠনে পূর্ণ মনোযোগ দিয়েছেন আনচেলত্তি। সর্বশেষ আন্তর্জাতিক বিরতিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি ম্যাচের একটিতে ১-১ গোলে ড্র এবং অন্যটিতে ৪-২ গোলে জয় পায় তার দল। পরবর্তীতে ভারতের বিপক্ষে ৪-০ গোলের বড় জয় তুলে নেয় তারা।

এবার সিঙ্গাপুরে জাপানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বছরের শেষ আন্তর্জাতিক বিরতি শুরু করবে ব্রাজিল। বাংলাদেশ সময় ১৪ নভেম্বর বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে শুরু হবে সেই ম্যাচ। এরপর ১৭ নভেম্বর বিকেল ৪টায় স্বাগতিক সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হবে আনচেলত্তির শিষ্যরা।

ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ দল:

গোলরক্ষক: বেন্তো (আল নাসর), লুকাস পেরি (তোরিনো), পেদ্রো মরিসকো (কোরিতিবা)।

ডিফেন্ডার: আর্তুর দিয়াস (আথলেতিকো পারানায়েন্স), কার্লোস অগুস্তো (ইন্টার মিলান), দগলাস সান্তোস (জেনিত), গ্যাব্রিয়েল মাগালিয়ায়েস (আর্সেনাল), জাইর কুনিয়া (নটিংহাম ফরেস্ট), জনাথন জেসুস (ক্রুজেইরো), ভান্দারসন (মোনাকো), ভিতর রেইস (ম্যানচেস্টার সিটি), ওয়েসলি (রোমা)।

মিডফিল্ডার: আন্দ্রে লুইজ (করিন্থিয়ান্স), আন্দ্রেই সান্তোস (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), ব্রুনো গিমারায়েস (আর্সেনাল), দানিলো সান্তোস (বোটাফোগো), গ্যাব্রিয়েল বোনতেম্পো (সান্তোস), জোয়াও গোমেস (অ্যাস্টন ভিলা), মারলন গোমেস (শাখতার দোনেৎস্ক)।

ফরোয়ার্ড: আলিসন সান্তানা (শাখতার দোনেৎস্ক), অ্যালান (ম্যানচেস্টার সিটি), এনদ্রিক (রিয়াল মাদ্রিদ), এস্তেভাও (চেলসি), রাফিনিয়া (বার্সেলোনা), রায়ান (বোর্নমাউথ), ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (রিয়াল মাদ্রিদ)।