পাবনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় বরাদ্দের আওতায় প্রায় তিন হাজার কৃষিযন্ত্র বিতরণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পেঁয়াজ সংরক্ষণে ব্যবহৃত ‘এয়ার ফ্লো মেশিন’ কৃষকেরা বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করে স্থাপনের পর উপজেলা কৃষি অফিসে তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে নির্ধারিত কারিগরি মান ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্রে অসংগতি পাওয়ায় কিছু কৃষকের চেক প্রদানে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, সরকারি প্রক্রিয়া অনুযায়ী মেশিনের কারিগরি স্পেসিফিকেশন যাচাই করা হচ্ছে। নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী মেশিনের মোটরের ক্ষমতা ৩০০ থেকে ৩৫০ ওয়াট, আরপিএম (RPM) ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ এবং ভেলোসিটি ৯ থেকে ১১-এর মধ্যে থাকতে হবে। এসব শর্ত পূরণ করছে কি না, তার ওপর ভিত্তি করেই মেশিন গ্রহণ ও চেক প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিতরণ কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কিছু কৃষক নিম্নমানের বা কাগজপত্রবিহীন প্রতিষ্ঠানের মেশিন দেখিয়ে চেক নেওয়ার চেষ্টা করছেন। আবার কেউ কেউ দোকান থেকে মেশিনের কাগজপত্র সংগ্রহ করেও প্রকৃতপক্ষে মেশিন বাড়িতে না নিয়ে শুধু কাগজপত্রসহ কৃষি অফিসে গিয়ে চেক নিতে চাইছেন। পরে বরাদ্দকৃত টাকা উত্তোলনেরও চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমন ঘটনায় সরকারি অর্থের অপব্যবহার এবং প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ পেয়েছে।

এ বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত কারিগরি মান, মেশিন সরবরাহ ও স্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র যাচাই না করে কোনো চেক দেওয়া হবে না। যাচাইয়ে অনিয়ম বা অসংগতি পাওয়া গেলে মেশিন পরিবর্তনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো কৃষক নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী মেশিন না পেলে তাকে মেশিন পরিবর্তনের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত শর্ত পূরণ এবং প্রয়োজনীয় যাচাই শেষে কৃষকদের চেক প্রদান করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, এসব মেশিনের ক্ষেত্রে তিন বছরের ফ্রি রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি এবং ১০ বছরের সার্ভিস ওয়ারেন্টি রয়েছে। ভবিষ্যতে মেশিন নষ্ট হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কাছ থেকে গ্যারান্টি ও সার্ভিস সুবিধা নিশ্চিত করতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র যাচাইয়ের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে পাবনা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাকিরুল ইসলাম জাকির বলেন, "এসব যাচাই-বাছাইয়ের মূল উদ্দেশ্য কৃষকদের হয়রানি করা নয়; বরং সরকারি বরাদ্দের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং কৃষকেরা যাতে মানসম্মত ও কার্যকর যন্ত্র পান, তা নিশ্চিত করা।"