গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য আয়োজনে লেখক, শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের জাতীয় কনভেনশন আগামী ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের স্লোগান ‘কণ্ঠে মোদের কুণ্ঠাবিহীন নিত্য-কালের ডাক’। ঢাকাসহ দেশের অধিকাংশ জেলা থেকে লেখক, কবি, শিল্পী, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিকর্মীরা এতে অংশ নেবেন বলে আয়োজকেরা জানিয়েছেন।

রাজধানীর তোপখানায় উদীচী কার্যালয়ে বুধবার সকালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়। জাতীয় কনভেনশন প্রস্তুতি কমিটির সদস্যসচিব ও বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান লালটু লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন সভাপতিত্ব করেন। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান–পরবর্তী দেশের বর্তমান বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে এ কনভেনশনের আয়োজন করা হচ্ছে। সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সমৃদ্ধ ও সংগ্রামী ধারাকে রক্ষা ও বিকশিত করা এবং সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনের পরিপূরক গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি নির্মাণ এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।

আয়োজকেরা জানান, রাষ্ট্রের মৌলিক পরিবর্তন ও শোষণ-বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা ছাড়া কেবল ব্যক্তি বা দলের পরিবর্তন জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারে না। এ জন্য সর্বব্যাপী সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তোলার প্রয়োজন আছে। লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, মুক্ত গণমাধ্যম, মুক্তচিন্তা ও সংস্কৃতিচর্চার শঙ্কাহীন পরিবেশ এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে বাধা, মব সন্ত্রাস, নারী ও আদিবাসীদের ওপর নিপীড়ন এবং স্বাধীন মতপ্রকাশ ও সংস্কৃতির ওপর আক্রমণের ঘটনাও তুলে ধরা হয়। ২০২৩ সালের ৬ মে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে ৩১টি সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের যৌথ প্রতিবাদ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য গঠনের সূত্রপাত। পরে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ২০ জুলাই কারফিউ জারির পর ২৬ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদী গানের মিছিল ও সমাবেশের মাধ্যমে কারফিউ ভাঙার কর্মসূচি পালন করে সাংস্কৃতিক মোর্চাটি। এরপর ৩০ জুলাই গান নিয়ে রাজপথের কর্মসূচি এবং ২ আগস্ট ‘দ্রোহযাত্রা’ আয়োজনের কথাও উল্লেখ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দেশের সংস্কৃতিকর্মীদের দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস আছে। অতীতের সেই সংগ্রামী ভূমিকা ও গৌরব পুনরুদ্ধার করে জনগণের পক্ষে সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। বর্তমান সময়ের বিভ্রান্তি ও প্রতিকূলতা অতিক্রম করে ব্যাপক ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধভাবে সাংস্কৃতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা। সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন গণসংস্কৃতি কেন্দ্রের উপদেষ্টা জাকির হোসেন, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, সমাজ অনুশীলন কেন্দ্রের সমন্বয়ক বিমল কান্তি দাশ এবং সমাজ চিন্তা ফোরামের রঞ্জন দাশ শিবু।

জাতীয় নাট্যশালা প্রাঙ্গণে ১১ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় কনভেনশনের উদ্বোধন করবেন সাংবাদিক ও লেখক নূরুল কবীর। উদ্বোধনের পর সংক্ষিপ্ত শোভাযাত্রা শেষে জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে উদ্বোধনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী অধিবেশনে অতিথি হিসেবে থাকবেন উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতৃত্বের দীপা দত্ত, লেখক-অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ এবং কারাবরণকারী বাউলশিল্পী আবুল সরকার। বেলা একটা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত মধ্যাহ্নবিরতির পর শুরু হবে সাংগঠনিক অধিবেশন। এটি চলবে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত। এরপর সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত থাকবে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। রাত সাড়ে আটটায় কনভেনশনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে।