রাজধানীর উত্তরায় ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি পুনরায় শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ আজ বুধবার এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের বক্তব্য গ্রহণ শেষ হয়েছিল। গত ২০ আগস্ট আদেশ প্রদানের কথা থাকলেও, বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-২-এ স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়। এর পরেই আজ বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২-এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি শুরু হয়।
চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য হাবিব হাসান এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ২৬ জনকে আসামি করে রাষ্ট্রপক্ষ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। এরপর পলাতক আসামিদের আত্মসমর্পণের জন্য সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। গত ২১ জুলাই প্রসিকিউশনের শুনানি শেষ হয় এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষ হয় গত ৩ আগস্ট।
আজ ট্রাইব্যুনাল-২-এ সূচনা বক্তব্যে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম বলেন, "ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই মামলায় উভয়পক্ষের শুনানি শেষ হয়েছিল। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলা বেশি। তাই ট্রাইব্যুনাল-১ মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-২-এ স্থানান্তর করেছেন। ট্রাইব্যুনাল-২ তা গ্রহণও করেছেন।"
প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার আরও জানান, "২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই রাজধানী উত্তরায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা এটি। ২০২৪ সালে ১৮ জুলাই মুগ্ধ আন্দোলনকারীদের মধ্যে পানি বিতরণ করছিলেন। এ অবস্থায় তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এভাবে সেদিন ৬ জন আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া সেদিন উত্তরায় এপিসির (সাঁজোয়া যান) পেছনের চাকায় পিষ্ট করে উবার চালক মোখলেসুর রহমান দুর্জয়কে হত্যা করা হয়। পরদিন ১৯ জুলাই আরও চার আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।"
মামলার ২৬ আসামির মধ্যে বর্তমানে আটজন কারাগারে আছেন। তাঁরা হলেন: সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মির্জা সালাউদ্দিন, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান, সাবেক কনস্টেবল হোসেন আলী, উত্তরা পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোয়ার ইসলাম চৌধুরী, এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের সহযোগী দেলোয়ার হোসেন, মো. শাহ আলম ও মো. ইরফানুল হক গাজী। আজ তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
অন্য ১৮ জন আসামি পলাতক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য হাবিব হাসান, ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপি উত্তরা বিভাগের সাবেক ডিসি কাজী আশরাফুল আজীম, সাবেক এডিসি তৌহিদুল ইসলাম, সাবেক এসি সুমন কর এবং উত্তরা পশ্চিম থানার সাবেক ওসি বি এম ফরমান আলী প্রমুখ অন্যতম।