চার দশক পর আবারও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে বসল বাংলাদেশ। আজ মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী সভায় সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

গত ২ জুন অনুষ্ঠিত ভোটে ৯৯ ভোট পেয়ে সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসকে পরাজিত করে এই পদে নির্বাচিত হন তিনি। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার দুপুরে তাঁর সভাপতিত্বে নতুন অধিবেশন শুরু হয়। সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার আগে ৮১তম অধিবেশনের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন খলিলুর রহমান। এরপর তিনি নিজ দায়িত্ব পালনে এগিয়ে যান।

আগামী ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের ভাষণের মধ্য দিয়ে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কের সূচনা হবে। এই অধিবেশনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সাবেক পেশাদার কূটনীতিক হিসেবে খলিলুর রহমানের কর্মজীবনের বেশিরভাগ সময়ই কেটেছে জেনেভা ও নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে। ১৯৯১ সালে জেনেভায় জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলনের (আঙ্কটাড) বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে যোগদানের পর তিনি ২৫ বছর ধরে নিউইয়র্ক ও জেনেভায় জাতিসংঘের বিভিন্ন জ্যেষ্ঠ পদে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি ছিলেন জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রকাশনার প্রধান লেখক।

বাংলাদেশ ২০২০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে দেশের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয় গত ২৭ ফেব্রুয়ারি। স্বল্প সময়ের মধ্যেই পূর্ণমাত্রার কূটনৈতিক প্রচার শুরু হলেও দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির সুযোগ না থাকলেও বাংলাদেশ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ এবং বহুপক্ষীয় কূটনৈতিক ফোরামে সক্রিয় ও কৌশলগত প্রচার চালিয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন অর্জন করতে সফল হয়। অন্যদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাস ২০১৬ সালে তাদের প্রার্থিতা ঘোষণা করে এক দশক ধরে ধারাবাহিক প্রচার চালায়।

ইতিহাসে ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও রাজনীতিবিদ হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী। রাজনীতিতে যোগদানের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের ফাঁকে তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে জাতীয় সংসদের স্পিকার হন হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী।