যার নেতৃত্বে বিশ্বকাপ জিতেছিলেন, সেই ইমরান খানের সঙ্গে তিন বছর কথা হয় না ওয়াসিম আকরামের। নিজের পথপ্রদর্শক ও বন্ধুকে খুব মনে পড়ে পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসারের। তবে সেই শূন্যতার সঙ্গে এখন যোগ হয়েছে স্বাস্থ্যের দুশ্চিন্তা। কারাবন্দী ইমরানের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে ওয়াসিম বলেছেন, বিচারিক প্রক্রিয়া যা-ই হোক, স্বাস্থ্যের প্রশ্নে কোনো আপস চলতে পারে না।

দ্য অ্যাথলেটিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাবেক অধিনায়ককে নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন ওয়াসিম। ইমরানের সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতা বোঝাতে বলেছেন, ‘তিনি আমার পথপ্রদর্শক, আমার বন্ধু। তাকে খুব মনে পড়ে।’

রাজনৈতিকভাবে ইমরানের সঙ্গে যা ঘটছে, তা দুর্ভাগ্যজনক বলে মনে করেন তিনি। তবে আদালতের বিষয় আদালতের ওপর ছেড়ে দিয়েই তার চিকিৎসা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন সাবেক এই বাঁহাতি পেসার।

ওয়াসিমের বক্তব্য, ইমরান দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন কি না কিংবা কারাগারে আছেন কি না, তার স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা এসবের ওপর নির্ভর করতে পারে না। একজন কাছের মানুষকে নিয়ে উদ্বেগ থেকেই তিনি কথা বলছেন। সরকার ইমরানের স্বাস্থ্য ভালো থাকার কথা জানালেও সেই আশ্বাসে তার দুশ্চিন্তা কাটছে না। কারাগারের ভেতরে আসলে কী হচ্ছে, তা স্পষ্টভাবে জানতে পারছেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি স্কাই স্পোর্টসে মাইক আথারটনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাবার স্বাস্থ্য ও কারাবাসের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন ইমরানের দুই ছেলে কাসিম ও সুলায়মান। সেই সাক্ষাৎকারের পর পাকিস্তানে প্রতিক্রিয়ার প্রসঙ্গও এসেছে ওয়াসিমের কথায়। তিনি জানান, এরপর সরকারের পক্ষ থেকে ইমরানের সঙ্গে কতবার সাক্ষাৎ হয়েছে এবং তিনি কতটি ফোনকল করেছেন, তার হিসাব প্রকাশ করা হয়। কিন্তু পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের মধ্যে কোনটি বিশ্বাস করবেন, তা বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে তার।

রাজনীতিতে জড়ানোর ইচ্ছা নেই বলেও স্পষ্ট করেছেন ওয়াসিম। তার কথা, তিনি রাজনীতিবিদ নন। তবে রাজনৈতিক বা আইনি বিতর্কে না গিয়েও বন্ধুর স্বাস্থ্য নিয়ে নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করতে পারেন।

২০২৩ সাল থেকে কারাবন্দী পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান। গত ২১ আগস্ট তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আবার কারাগারে ফেরানো হয়। সে সময় তাঁকে চিকিৎসাগতভাবে সুস্থ ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে হাসপাতালে রাখার সময় ও আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল তার দল।

ইমরানের চিকিৎসা নিয়ে ওয়াসিমের উদ্বেগ প্রকাশ এবারই প্রথম নয়। গত ফেব্রুয়ারিতেও সাবেক অধিনায়কের জন্য সর্বোত্তম চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারেও সেই দাবিই জোর দিয়ে তুলে ধরলেন ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম নায়ক।