কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে প্রতিষ্ঠিত ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস (ইনমাস) কুষ্টিয়ায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ানসহ জনবলের অভাবে রোগীদের সেবা নিতে ব্যাপক ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। জনবল সংকটের কারণে বিভিন্ন পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ায় দুই থেকে তিন দিন সময় লাগছে, যা দূর-দূরান্তের রোগীদের জন্য অতিরিক্ত যাতায়াত ও আর্থিক বোঝা তৈরি করেছে। এছাড়া রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে, যা প্রতিষ্ঠানটির সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে পরিদর্শনে জানা যায়, বর্তমানে ইনমাসে মোট ৩২ জন কর্মরত আছেন। এর মধ্যে চিকিৎসক আছেন তিনজন এবং বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আছেন একজন। রাজস্ব খাতের ১৪ জন কর্মীর মধ্যে চারজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান ও টেকনোলজিস্টসহ কোন পদে কতজন জনবল প্রয়োজন, তার কোনো নির্দিষ্ট তালিকা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিতভাবে দিতে পারেনি।

থাইরয়েড ক্যানসার ও হাইপারথাইরয়েডিজমের চিকিৎসায় আয়োডিন-১৩১ থেরাপি, চোখের টেরিজিয়াম অপারেশনের পর স্ট্রনশিয়াম-৯০ দিয়ে বিটা রেডিয়েশন, বোন স্ক্যান, রেনাল স্ক্যান, রেনোগ্রাম ও থাইরয়েড স্ক্যানসহ বিভিন্ন ধরনের সিন্টিগ্রাফা সেবা এই প্রতিষ্ঠানে দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিশেষায়িত আল্ট্রাসনোগ্রাফি, কালার ডপলার, হরমোন ও রক্ত পরীক্ষা, রেডিওআয়োডিন আপটেক ও বিএমডি পরীক্ষা করা হয়। যদিও আল্ট্রাসনোগ্রামের রিপোর্ট পরীক্ষার দিনই পাওয়া যায়, অন্যান্য বেশিরভাগ পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে রোগীদের দুই থেকে তিন দিন অপেক্ষা করতে হয়। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের একাধিকবার কুষ্টিয়ায় আসতে হয়, যা সময় ও যাতায়াত খরচ বাড়িয়ে ভোগান্তি তৈরি করছে।

সেবার পাশাপাশি রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে খারাপ আচরণের অভিযোগও শোনা যাচ্ছে। শাশুড়িকে চিকিৎসা করাতে ইনমাসে আসা আবু সাঈদ বলেন, "এখানে রিসেপশনে থাকা বাইরের লোকজন এবং ভেতরের কিছু টেকনিশিয়ানের ব্যবহার খুবই খারাপ। তারা সাধারণত আমার সঙ্গে খুবই দুর্ব্যবহার করেন।"

রেডিয়েশনভিত্তিক চিকিৎসায় রোগী ও আশপাশের মানুষের বিকিরণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে রেডিওআয়োডিনসহ কিছু চিকিৎসায় নির্দিষ্ট সময় রোগীকে আইসোলেশনে রাখার প্রয়োজন হয়, যাতে অন্যরা অপ্রয়োজনীয় বিকিরণের সংস্পর্শে না আসেন। এ ধরনের সেবায় পৃথক আইসোলেশন ব্যবস্থা, নিরাপত্তা নির্দেশনা ও প্রশিক্ষিত জনবল নিশ্চিত করা জরুরি, যা ইনমাসের অন্যতম লক্ষ্য। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল চত্বরে ইনমাস কুষ্টিয়া স্থাপন করে। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর।

অল্প সময়েই আশপাশের জেলাগুলোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেলেও এখনো প্রয়োজনীয় জনবল পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়ায় অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ও বিশেষায়িত সেবার পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, রিপোর্ট দেরিতে পাওয়ায় চিকিৎসকের দ্রুত রিপোর্ট প্রয়োজন এমন রোগীদের ক্ষেত্রে উদ্বেগ বাড়ছে। জনবল বাড়িয়ে রিপোর্ট প্রদানের সময় কমানো এবং রোগীবান্ধব সেবা নিশ্চিত করাই এখন ইনমাস কুষ্টিয়ার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইনমাসের পরিচালক ও মুখ্য চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. সানি আনাম চৌধুরী। মুক্তকণ্ঠকে তিনি বলেন, "পূর্ণাঙ্গ লোকবল নিয়োগ হলে সেবার মান আরও বাড়বে। এখন একটু দেরি হচ্ছে। আমাদের অভিযোগ বক্স আছে। এমন হওয়ার কথা না। দুই-একটি অভিযোগ ছিল।"