ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর ইউনিয়নের চর নশিপুর গ্রামে গতকাল সোমবার দুপুরে একটি পরিবার ৫৭ বছর পর আদালতের নির্দেশে তাদের জমির দখল ফিরে পেয়েছে। ঢাক বাজিয়ে ও লাল পতাকা উত্তোলন করে জমির সীমানা নির্ধারণ ও দখল হস্তান্তর অনুষ্ঠিত হয়।
ঘটনার সূত্রপাত ১৯৬৯ সালে। স্থানীয় বাসিন্দা ওয়াজ উদ্দিন শেখ তখন ১ হাজার ৩০০ টাকায় পাঁচ বছরের মেয়াদে সদর উপজেলার ডিক্রির চর এলাকার আলম খাঁর কাছে এক একর ৩২ শতক জমি বন্ধক রাখেন। বন্ধক রেখে মাত্র দুই বছর পর আলম খাঁ জমিটি অন্যের কাছে বিক্রি করে দেন। জমি ফেরত চাইলে প্রতিপক্ষ টালবাহানা শুরু করলে ২০১০ সালে ওয়াজ উদ্দিন দেওয়ানি আদালতে মামলা করেন। মামলার নিষ্পত্তি না দেখেই মামলা চলাকালে ওয়াজ উদ্দিনের মৃত্যু হয়। এরপর তার ছেলে মাজেদুর রহমান মামলাটি এগিয়ে নেন।
নিম্ন আদালতে মাজেদুরের পক্ষে রায় হলেও প্রতিপক্ষ একের পর এক আপিল করেন। মামলা দায়েরের ১৬ বছর পর এ বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি উচ্চ আদালতে চূড়ান্ত রায় মাজেদুরের পক্ষে আসে।
গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে আদালতের নির্দেশে নাজির, সার্ভেয়ার, অ্যাডভোকেট কমিশনার ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। সেখানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে লাল পতাকা টাঙানো হয়। এরপর জমির সীমানা নির্ধারণ করে মাজেদুর রহমানকে দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় ঢাক পিটিয়ে জমির দখল হস্তান্তরের ঘোষণা দেওয়া হয়।
মাজেদুর রহমান বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তিনি ন্যায়বিচার পেয়েছেন। তবে তাঁর আফসোস, বাবা তাঁর বন্ধক রাখা জমিটি নিজের দখলে দেখে যেতে পারেননি। বাবার শুরু করা আইনি লড়াইয়ের ১৬ বছর পর শেষ পর্যন্ত সেই জমির দখল ফিরে পেল তাঁর পরিবার।