বাংলাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের নেতা ও লেখক বদরুদ্দীন উমরের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন। গতকাল সোমবার বিকেল সাড়ে চারটায় টিএসসি সড়কদ্বীপের স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে এই প্রদর্শনী শুরু হয়।

বিকেল থেকেই চত্বরে স্থাপিত আলোকচিত্রগুলো দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে। এরপর সন্ধ্যা সাতটার দিকে বদরুদ্দীন উমরের জীবন, রাজনৈতিক সংগ্রাম ও লেখনী নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্রটি প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মিতু সরকার। তিনি বলেন, "বদরুদ্দীন উমর তাঁর জীবন ও কর্মের মাধ্যমে শ্রমিক-কৃষক ও মেহনতি মানুষের মুক্তির সংগ্রাম এবং ক্ষমতার প্রশ্নকে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর লেখনী, বক্তৃতা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণসমাজকে পরিচিত করা প্রয়োজন।"

মিতু সরকার আরও বলেন, "জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের একটি শাসনের অবসান ঘটেছে। সমাজব্যবস্থা পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা যেসব তরুণের মধ্যে রয়েছে, তাঁদের বদরুদ্দীন উমরের লেখা ও বই পড়া এবং তাঁর রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাস জানা প্রয়োজন। এ উদ্দেশ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।"

জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ও বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি ফয়জুল হাকিম বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, "বদরুদ্দীন উমর শুধু বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েই লেখেননি; উপমহাদেশ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি, সাম্রাজ্যবাদ, যুদ্ধ এবং সমাজতন্ত্রের প্রশ্নেও তিনি দীর্ঘদিন লিখেছেন ও বিশ্লেষণ করেছেন। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর বিশ্বজুড়ে সমাজতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে হতাশা তৈরি হয়েছিল, সে সময়ও বদরুদ্দীন উমর সমাজতন্ত্রের প্রশ্নে তাঁর অবস্থান ধরে রেখেছিলেন।"

ফয়জুল হাকিম বলেন, "বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা—ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ–অভ্যুত্থান বিশ্লেষণের ক্ষেত্রেও বদরুদ্দীন উমর শাসকশ্রেণি ও জনগণের ভূমিকা নিয়ে ভিন্নধর্মী দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। রাজনৈতিক সংগ্রামের পাশাপাশি ইতিহাসচর্চাকেও বদরুদ্দীন উমর গুরুত্বপূর্ণ মনে করতেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।"