ঢাকা, ২৬ জুন — বদরুদ্দীন উমরের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ শুক্রবার বিকেলে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বাংলাদেশের বিপ্লবী আন্দোলন ও কমরেড বদরুদ্দীন উমর’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের পক্ষ থেকে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বক্তারা লেখক ও রাজনীতিবিদ বদরুদ্দীন উমরের চিন্তাধারা ও কর্মকাণ্ডের প্রতি সম্মান জানিয়েছেন।
সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, বদরুদ্দীন উমর তাঁর রচনাবলির মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের উৎপত্তি এবং শাসকশ্রেণির চরিত্র বিশ্লেষণ করে গেছেন। বিশেষ করে শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগের নারেশনের নামে পরিচালিত শাসনব্যবস্থাকে তিনি কঠোরভাবে সমালোচনা করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে যে ফ্যাসিবাদী শাসন, গুম, ক্রসফায়ার, বিনা বিচারে আটক এবং মিথ্যা মামলা চালানো হয়েছিল, তার বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার ছিলেন।
জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিম সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, ‘বদরুদ্দীন উমর কেবল ব্যক্তি ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন বিপ্লবী কমিউনিস্ট রাজনীতিবিদ, এ দেশের সর্বশ্রেণির একজন প্রতিনিধি। তিনি যে অসমাপ্ত কাজ করে গিয়েছেন, যে বিপ্লবের জন্য, যে সর্বহারা বিপ্লবের জন্য তিনি কাজ করে গেছেন, সেই কাজের পূর্ণতা দিতে আমাদেরকে কাজ করতে হবে।’
ফয়জুল হাকিম আরও বলেন, বদরুদ্দীন উমর তাঁর ‘যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশ’ গ্রন্থে দেখিয়েছিলেন, কীভাবে দেশে লুণ্ঠনজীবী পুঁজি গড়ে উঠেছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শ্রেণিচরিত্র বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছিলেন, এই শ্রেণি শিল্প, উৎপাদন, কৃষি কোনোটির সঙ্গেই যুক্ত ছিল না। ঘুষ, দুর্নীতি, চোরাচালান, লুটপাটের মাধ্যমে গড়ে ওঠা এক ব্যবসায়ী শ্রেণি দেশের শাসনক্ষমতা দখল করেছিল।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর গঠিত জাতীয় সংসদ ও সরকার-বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব নিয়েও তিনি মন্তব্য করেন। ফয়জুল হাকিম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পরও বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ যেভাবে গঠিত হয়েছে এবং যে সরকার ও বিরোধী দল ক্ষমতায় এসেছে, তারা মূলত এই লুণ্ঠনজীবী শাসকশ্রেণিরই প্রতিনিধি। তাঁর ভাষায়, এদের পক্ষে জনগণের মৌলিক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। তারা ‘মহামান্য’ আর ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দিতে পারে, কিন্তু এর বাইরে তাদের আর খুব বেশি কিছু করার নেই।
আন্তর্জাতিক বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফয়জুল হাকিম অভিযোগ করেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে সরকার ধর্মকে ব্যবহার করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, গাজায় যখন ফিলিস্তিনিদের মেরে ফেলল, কোথায় ছিল সৌদি আরব, তুরস্ক আর পাকিস্তান? দেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করার যে চেষ্টা শাসকশ্রেণি করছে, এই চেষ্টা তারা করতে পারে। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদী কোনো যুদ্ধজোটে বাংলাদেশ যাবে না। এটা পরিষ্কার কথা।
অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে লেখক শিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি পাভেল চৌধুরী, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের (এমএল) সাধারণ সম্পাদক আবদুল হাকিম এবং জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সদস্য মিনহাজ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।