দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী দেশে প্রায় ৮৯ হাজার চিকিৎসকের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৩০ হাজার কিছু বেশি চিকিৎসক। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই তথ্য জানিয়েছেন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মোশাররফ হোসেনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তার হয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত এই জবাব প্রদান করেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী দেশে মোট ৮৮ হাজার ৯০৯ জন চিকিৎসক প্রয়োজন। বর্তমানে সরকারি হাসপাতালগুলোতে অনুমোদিত পদের সংখ্যা ৪১ হাজার ৮০৬টি, যার বিপরীতে কর্মরত আছেন ৩০ হাজার ৩১১ জন চিকিৎসক। ফলে বর্তমানে ১১ হাজার ৪৯৫টি পদ শূন্য রয়েছে। মন্ত্রী জানান, চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই শূন্যপদগুলো পর্যায়ক্রমে পূরণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পদ সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, বিএনপির অপর সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, গত তিন বছর ধরে চাহিদার তুলনায় জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ কম থাকায় পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই কার্যক্রম গতিশীল করতে এবং নিরবিচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।