দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে চিনিশিল্প কারখানায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সেতাবগঞ্জের কান্তা কৃষি খামারে আগামী ২০২৬-২৭ মৌসুমের জন্য আখ রোপণও শুরু করা হয়েছে।
সরকারের '২৫ কোটি চারা রোপণ' কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ রোববার এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত হয়। সেতাবগঞ্জের কান্তা কৃষি খামারে উন্নত জাতের আখের চারা এবং বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে এ কর্মসূচির সূচনা করা হয়।
বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) চেয়ারম্যান মো. শামছুজ্জামান সুরুজ বৃক্ষরোপণ ও মাড়াই মৌসুমের আখ রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচিটির উদ্বোধন করেন। এ সময় বিএসএফআইসির পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রতিটি চিনি কারখানায় ১ হাজার করে মোট ১৫ হাজার গাছ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিএসএফআইসির চেয়ারম্যান বলেন, "পরিবেশ রক্ষায় আখ চাষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চ কার্বন শোষণ ক্ষমতাসম্পন্ন এ ফসল বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন শোষণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় জমিতে অবস্থান করায় আখ মাটির ক্ষয় রোধ এবং পরিবেশগত ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক। তিনি বলেন, আখের বিভিন্ন উপজাত, বিশেষ করে ছোবড়া ও চিটাগুড় পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জৈব সার উৎপাদনে ব্যবহার করা যায়। ফলে আখ চাষ চিনিশিল্পের বিকাশের পাশাপাশি সবুজ অর্থনীতি গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।"
বিএসএফআইসির চেয়ারম্যান আরও বলেন, "আখের সঙ্গে সাথি ফসল চাষের সুযোগ থাকায় একই জমি থেকে কৃষকের বাড়তি আয় করা সম্ভব। পাশাপাশি চিনিশিল্পকে কেন্দ্র করে আখ চাষ সম্প্রসারিত হলে গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় কৃষি অর্থনীতির বিকাশ ঘটবে।"