পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় বনওয়ারীনগর সরকারি সি.বি.পি. উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষকে অবৈধভাবে আবাসস্থলে রূপান্তরিত করার অভিযোগ উঠেছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু ইউসুফ হেলালী বিদ্যালয়ের দোতলায় অবস্থিত পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন ল্যাবরুমটিতে নিয়মবহির্ভূতভাবে বসবাস করছেন বলে জানা গেছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, ওই কক্ষে ফ্রিজ, গ্যাসের চুলা, আলমিরা এবং অন্যান্য আসবাবপত্র স্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল হাই বিষয়টি নিয়ে বলেন, "বিদ্যালয়ের কোনো কক্ষ যদি আবাসিক কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাহলে এর অনুমোদন আছে কি না, সেটি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের অর্থে ফ্রিজ, গ্যাসের চুলা, আলমিরা ও ফার্নিচার কেনা হয়ে থাকলে সেগুলো স্টক রেজিস্ট্রারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কি না, কেনাকাটার বিল-ভাউচার ও রেজুলেশন রয়েছে কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা দরকার।"

এ বিষয়ে ফরিদপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আতিকুজ্জামান বলেন, "বিদ্যালয়ের ভবনের কোনো কক্ষ দখল করে বসবাস করা সম্পূর্ণ অবৈধ। এমনটি হয়ে থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

অন্যদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষক জানান, শিক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের অভাব রয়েছে। একটি কক্ষ আবাসিক কাজে ব্যবহারের কারণে শ্রেণি কার্যক্রম ও ব্যবহারিক শিক্ষায় আরও সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকা এবং হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর না করার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগের মুখে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু ইউসুফ হেলালী বলেন, "এসএসসি পরীক্ষার সময় সেখানে ছিলাম। এখন আর থাকি না। শহর থেকে যাতায়াতে সমস্যা হওয়ায় সেখানে ছিলাম। সামগ্রীর মধ্যে ফ্রিজ ও খাটটি আমার নিজের কেনা। স্কুল সভাপতির অনুমতি ছাড়াই সেখানে ছিলাম। এটাই আমার ভুল হয়েছে। এ জন্য আমি অনুতপ্ত।"

বিদ্যালয়ের সভাপতি ও ফরিদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ইমামা বানিন বলেন, "স্কুলের কক্ষে বসবাসের জন্য আমার কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

পাবনার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাজ্জাক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাদের নজরে আসার পর ফরিদপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে সরেজমিনে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কমিটি গঠন করে বিষয়টি তদন্ত করা হবে। বিদ্যালয়ের কক্ষ আবাসিক কাজে ব্যবহারের বিষয়টি প্রমাণিত হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"