বিএনপি নেতাদের কড়া হুঁশিয়ারি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণার প্রায় এক মাস পর নারায়ণগঞ্জে এসে কর্মসূচি পালন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তবে তাকে প্রতিহত ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা মহানগর বিএনপির কোনো নেতাকে এদিন দেখা যায়নি।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চটি নারায়ণগঞ্জের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল ট্রাকস্ট্যান্ড মোড়ে পৌঁছায়।
সেখানে আয়োজিত বিশাল পথসভায় শরিক হয়ে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ‘গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে, নইলে গদি ছাইড়া দে’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়। তার সঙ্গে থাকা বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীও এতে কণ্ঠ মেলান।
এর আগে, গত ১ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তাকে নারায়ণগঞ্জে প্রবেশের চেষ্টা করা হলে প্রতিহত করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন এবং সদস্যসচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুর উপস্থিতিতে তৎকালীন সমাবেশ থেকে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছিল।
বিএনপির সেই সুনির্দিষ্ট হুঁশিয়ারির এক মাসের মাথায় শিমরাইলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সরব উপস্থিতি এবং তাকে প্রতিহতের হুমকি দেওয়া বিএনপি নেতাদের অনুপস্থিতি স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এদিকে ৬ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানারে আজ ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে এ লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, চাঁদাবাজি-দুর্নীতি বন্ধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের দাবিতে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন ও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ জোটে থাকা শীর্ষ নেতারা।
সকাল থেকে রাজধানী ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা মহাসড়কের শিমরাইল এলাকায় জড়ো হয়ে বিশাল জমায়েত গড়ে তোলেন। পরে শিমরাইলসহ মহাসড়কের কয়েকটি স্থানে সংক্ষিপ্ত পথসভা শেষে লংমার্চটি চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘি ময়দানে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।