বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এবং জামালপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত আশাবাদ প্রকাশ করেছেন যে, গত সরকারের আমলে সৃষ্ট ভঙ্গুর পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতের প্রধান সংকটগুলো সমাধান করা সম্ভব হবে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জামালপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, বিগত প্রশাসন কেবল সামনে দেখানোর লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করলেও, সেই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর স্থায়ী পরিচালনা ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিতকরণে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রাখতে এলএনজি, গ্যাসিফিকেশন ইউনিট, এলএনজি টার্মিনাল ও এফএসআরইউ-সহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো অপরিহার্য। কিন্তু সেই সব সুযোগ-সুবিধা গড়ে তোলার বিষয়ে আগের সরকার অমনোযোগী ছিলেন, যার ফলে বর্তমানে সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।
‘ইন্টারিম গভর্নমেন্ট’ যে এফএসআরইউ ছিল, যেটির মাধ্যমে গ্যাসিফিকেশন করে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ করা হতো, সেটিও বাতিল করে গেছে। সেটি বাতিল না হলে বিদ্যুৎ সংকট কিছুটা হলেও সমাধান করা যেত বলে দাবি করেন তিনি।
বর্তমান সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দ্রুতগতিতে কাজ শুরু হয়েছে। এফএসআরইউ স্থাপন এবং এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের কাজ চলছে। তিনি স্পষ্ট করেন, কেবল এলএনজি আমদানি করলেই হবে না, সেটি নামানোর জন্য টার্মিনাল অবশ্যই প্রয়োজন।
আগের সরকারের সমালোচনা করে মিল্লাত বলেন, আমার মনে হয়, দেশটাকে ধ্বংস করার জন্যই বিগত সরকার ছিল। আল্লাহ আমাদের এই ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থা থেকে উদ্ধার করেছেন।
বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিরসনে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আল্লাহ যদি সহায় হন, তাহলে এক থেকে দেড় বছরের মধ্যেই বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতের বড় সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারব।
এর আগে, মন্ত্রী জামালপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। হাসপাতালের বেহাল অবস্থা দেখে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।