ফেনীর দাগনভূঞা পৌর এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে ফেরার পথে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চার্জ শেষ হওয়ায় থামলে স্থানীয় একদল যুবক তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় স্বামী মো. মাসুদকে বেঁধে রাখা হয় এবং তার স্ত্রী সুলতানা রাজিয়াকে ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে দাগনভূঞা থানায় অপহরণ ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালীর সুবর্ণচরের বাসিন্দা মো. মাসুদ ও তার স্ত্রী সুলতানা রাজিয়া চট্টগ্রাম থেকে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে রাতে সুবর্ণচরে ফিরছিলেন। রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ফেনীর দাগনভূঞা পৌর এলাকায় পৌঁছালে অটোরিকশার চার্জ শেষ হয়ে যায়। চার্জ দেওয়ার জন্য তারা ফাজিলের ঘাট রোডের ‘জুয়েলের গ্যারেজে’ অটোরিকশাটি রাখেন। এ সময় একদল স্থানীয় বখাটে যুবক তাদের ঘিরে ধরে নানাভাবে নাজেহাল করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা ওই দম্পতিকে জিম্মি করে জগতপুরের ফাতেমা মঞ্জিলের বিপরীত পাশে ‘পরেশ স্টোরে’ নিয়ে স্বামী মাসুদকে বেঁধে রাখে। পরে স্ত্রীকে পাশে থাকা আবুল কালামের একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। ওই সময় অভিযুক্তদের একজনের ফোনে রিং বেজে উঠলে সে ওই নারীর ওপর থেকে সরে দাঁড়ায়। এই সুযোগে ভুক্তভোগী নারী উঠে দৌড়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন।

পরবর্তীতে ভোররাত সাড়ে চারটার দিকে খবর পেয়ে দাগনভূঞা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে জিম্মি স্বামী মাসুদকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। শনিবার বিকেলে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর এসআই মো. মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় প্রধান ৬ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন— জগতপুর ভূঞা বাড়ির মো. সিরাজের ছেলে মো. রাশেদ প্রকাশ রাজ (১৯), বেলাল হোসেনের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (২৪), কামাল উদ্দিনের ছেলে মো. শাহেদুল ইসলাম শাহিন (১৯), উত্তর করিমপুরের গোলাম মাওলা মাসুদের ছেলে মো. শাহরিয়ার নোমান (১৯), আমানউল্লাহপুরের জাবেদ উদ্দিনের ছেলে মো. জাকির হোসেন (২১) এবং মো. হারুনের ছেলে শাহিন উদ্দিন মুন্না (২৯)।

বিষয়টি নিশ্চিত করে দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজিম নোমান জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অপরাধ ও অপরাধীদের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রেখে সর্বসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে.