মাগুরার শ্রীপুর বাইপাস সড়কের নির্মাণকাজ ব্যাহত হচ্ছে। সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিদ্যুতের খুঁটি স্থানান্তরের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে গত জুন মাসেই অর্থ পরিশোধ করা হলেও কয়েক মাস ধরে কাজের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। ফলে সড়কের মূল কাজ থেমে থাকায় স্থানীয়রা ও যানবাহন চালকদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

সরেজমিনে পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, নির্মাণাধীন সড়কের বিভিন্ন অংশে রাস্তার মাঝখানেই বৈদ্যুতিক খুঁটি দাঁড়িয়ে আছে। কিছু অংশে কাজ শেষ হলেও খুঁটি সরানো না হওয়ায় পুরো সড়কটি সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। সড়ক বিভাগ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, খুঁটি স্থানান্তরের জন্য ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডকে (ওজোপাডিকো) প্রায় ১৫ লাখ টাকা এবং মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে প্রায় ৫ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জান্নাত সুলতানা বলেন, "সড়কের উন্নয়নকাজের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও রাস্তার মাঝখানে থাকা খুঁটির কারণে কাজ আটকে আছে। বিশেষ করে রাতে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করা ঝুঁকিপূর্ণ।" স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের নির্মাণকাজ দীর্ঘায়িত হচ্ছে। তারা দ্রুত খুঁটি অপসারণ করে সড়কের কাজ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করতে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. মহিদুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "ওই সড়কে আমাদের মালিকানাধীন কোনো খুঁটি বর্তমানে নেই। আমাদের ১০টি পোল অপসারণের জন্য মোট ৪ লাখ ২৩ হাজার ৬৮৫ টাকা ব্যয় হয়েছে এবং সেগুলো আগেই অপসারণ করা হয়েছে।" অন্যদিকে ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ঘোষ জানান, "প্রয়োজনীয় মালামালের বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বর্তমানে মালামাল সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে। তবে এখনও দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বান করা সম্ভব হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী দরপত্র আহ্বানের পরই খুঁটি অপসারণের মূল কাজ শুরু হবে।"

মাগুরা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কায়সার হামিদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "গত জুন মাসেই ওজোপাডিকোকে টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু এত দিন পার হলেও তারা এখনও টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি দেয়নি। সড়কের মাঝ থেকে পোল অপসারণ না করায় আমাদের ঠিকাদারি কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এতে পুরো প্রকল্পের বাস্তবায়নও পিছিয়ে যাচ্ছে।"