দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে। বিষয়টি যাচাই করে কমিশনের সিদ্ধান্তের পর মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে সকল সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও রেকর্ড তলব করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তথ্য প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও উপপরিচালক মো. জাহিদ কালাম স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দায়িত্বকালীন সময়ে মন্ত্রণালয়ের অধীন সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি সংক্রান্ত তথ্য ও আনুষঙ্গিক রেকর্ড চাওয়া হয়েছে।

চিঠিতে চার ধরনের নথি তলব করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের স্মারক নম্বর-৪৬৬ (তারিখ: ০৭/০৫/২০২৫ খ্রি.) এবং স্মারক নম্বর-২৭৪ (তারিখ: ১৮/০৪/২০২৬ খ্রি.) মূলে বদলি সংক্রান্ত নথির সত্যায়িত কপি। এ ছাড়া তিনটি স্মারকের ভিত্তিতে ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব প্রদান, বাতিল ও পদায়ন সংক্রান্ত নথির সত্যায়িত ছায়ালিপিও দাবি করা হয়েছে।

মাঠপর্যায়ের নির্দিষ্ট সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত নথির কপিও তলব করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন মো. গোলাম মোস্তফা, মামুন, জাহিদ, আমির (ঢাকা), আনিচ, জাহিদ ও ইব্রাহিম (বগুড়া), জুলহাস (বরিশাল), নজিমউদ্দিন, আলী হোসেন, আবু সাঈদ (পাবনা), কোরবান আলী (ধামরাই) এবং আলী হোসেনের (নরসিংদী)।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম বুধবার এক ব্রিফিংয়ে জানান, সাবেক উপদেষ্টা, মন্ত্রণালয়ের সচিব, পদস্থ দুই কর্মকর্তাসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ সম্প্রতি জমা পড়ে দুদকে। তিনি আরও জানান, দুদকের যাচাই-বাছাই কমিটি অভিযোগটি যাচাই করে। পরে অনুসন্ধানের সুপারিশ করে কমিশনে পেশ করে। কমিশন এটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। অনুসন্ধানের জন্য দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামকে প্রধান করে চার সদস্যের বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে।