নোয়াখালীর সুবর্ণচরে নদীর পাড়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন দুই তরুণ-তরুণী। সেখানে স্থানীয় কয়েকজন তরুণের হাতে তাঁরা হেনস্তার শিকার হন। তিন মাস আগে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয় সম্প্রতি। এ ঘটনার স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি অভিযুক্ত দুই যুবককে কান ধরে ওঠবস করানোর পাশাপাশি নদীতে চুবিয়েছেন। এরপর তাঁদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার ভূঁইয়ারহাটসংলগ্ন মেঘনার শাখা নদীর পাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নদীটি স্থানীয়ভাবে মরা মেঘনা নামে পরিচিত। প্রায় তিন মাস আগে এ এলাকাতেই বেড়াতে আসা তরুণ-তরুণীকে হেনস্তার ঘটনা ঘটেছিল। পরে গতকাল বুধবার এ হেনস্তার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, তরুণ-তরুণীকে ঘিরে ধরে নানান অশালীন কথা বলছেন অভিযুক্ত তরুণেরা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্ত দুই তরুণকে আটক করে নদীর পাড়ে নিয়ে আসেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। তাঁরা বিএনপির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কর্মী বলে পরিচয় দিয়েছেন। এরপর অভিযুক্তদের কান ধরে ওঠবস করতে বলা হয়। অভিযুক্তরা কান ধরে ওঠবস করলে তাঁদের নদীতে নেমে ৫০টি ডুব দিতে বলা হয়। পরে অভিযুক্তরা গিয়ে ডুব দেন।

এ ঘটনার পর অভিযুক্ত দুজনকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পরে তাঁদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। অভিযুক্তদের কান ধরে ওঠবস করানো ব্যক্তিদের একজন আবির হোসেন। তিনি নিজেকে সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা ইউনিয়ন প্রযুক্তি দলের সভাপতি হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। জানতে চাইলে তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘তরুণ-তরুণীকে হেনস্তা করার ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর যেভাবে দলের (বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের) বিরুদ্ধে সমালোচনা হচ্ছিল, তাতে মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। এর কারণে আজ অভিযুক্ত দুজনকে ধরে আমরা শাস্তি দিয়েছি। তবে এভাবে শাস্তি দেওয়া ঠিক হয়নি। এটা এখন বুঝতে পারছি।’

এ বিষয়ে চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল হাসান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, তরুণ-তরুণীকে হেনস্তার অভিযোগে দুজনকে আটক করা হয়েছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে সেখান থেকে দুজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়। এরপর তাঁদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের (মোবাইল কোর্ট) মাধ্যমে সাজা দেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু হেনস্তার ঘটনা তিন মাস আগে হওয়ায় বিচার সম্ভব হয়নি। অভিযোগে পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকিব ওসমান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ঘুরতে যাওয়া তরুণ-তরুণীকে হেনস্তার ভিডিও তিনি দেখেছেন। ঘটনাটি প্রায় তিন মাস আগের। পুলিশ তাঁদের আটক করেছে। ঘটনা পুরোনো হওয়ায় আটকদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিচার করা সম্ভব নয়। তাই পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।