ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘জ্বালানি স্বনির্ভর ও সবুজ ক্যাম্পাস’ হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের কাছে এ বিষয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন কবি জসীমউদ্‌দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী হামিম।

স্মারকলিপিতে একাডেমিক, প্রশাসনিক ও আবাসিক হলসহ উপযুক্ত ভবনগুলোর ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। উৎপাদিত বিদ্যুতের উদ্বৃত্ত অংশ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবের প্রথম ধাপে ভবনগুলোর ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা যাচাই করে ‘সৌরবিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা’ প্রণয়ন এবং কয়েকটি ভবনে পরীক্ষামূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়। পরবর্তীতে সফলতার ভিত্তিতে পুরো ক্যাম্পাসে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ ব্যয় হ্রাস এবং পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে ‘জীবন্ত গবেষণাগার’ হিসেবে কাজে লাগিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি দক্ষতা ও স্মার্ট গ্রিড সংক্রান্ত গবেষণার সুযোগ সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে।

স্মারকলিপি প্রদানকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মৌসুমী শেখ, ক্রীড়া সম্পাদক মো. সাইফ উল্লাহসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

স্মারকলিপি প্রদানের পর নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলনে শেখ তানভীর বারী বলেন, "বর্তমানে বিশ্বব্যাপী গ্যাসের সংকট ও বিদ্যুৎ উৎপাদন সংকট রয়েছে। তাই শুধু গ্যাসনির্ভর না হয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারও এ বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে।"

তিনি আরও বলেন, "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ভবন যাচাই করে যদি সৌর প্যানেল স্থাপন করা যায়, তবে এটি দেশের অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি মডেল হিসেবে ভূমিকা রাখবে। এর ফলে বিদ্যুতের সংকট মোকাবিলায় একটি বিকল্প উৎস তৈরি হবে।"