বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে খেলাপি ঋণ। দীর্ঘ সময় ধরে ঋণ পুনঃতফসিল, পুনর্গঠন এবং বিভিন্ন ধরনের ছাড় দেওয়া হলেও এই সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ব্যাংক খাতের ঘুরে দাঁড়ানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।
খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছয় লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে তদারকির দুর্বলতা ও পরিচালনাগত ত্রুটিকে দায়ী করা হয়েছে। বিভিন্ন যোগসাজশের মাধ্যমে ভুয়া কোম্পানির নামে ঋণ নিয়ে সেই অর্থ পাচার করা হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান জ্বালানি সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় অনেক বড় ঋণগ্রহীতা ঋণ পরিশোধে unable হয়ে পড়েছেন, যা নতুন করে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়িয়েছে।
ঋণখেলাপিদের জন্য বিভিন্ন সময়ে পুনঃতফসিলীকরণের সুযোগ দেওয়া হলেও সেই সুবিধার অপব্যবহারের প্রবণতা দেখা গেছে। এর ফলে দেশে ঋণ খেলাপের একটি সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ ব্যাংক গত ৩১ আগস্ট খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত করেছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠান বা শিল্পগোষ্ঠীর ঋণস্থিতি ১ হাজার কোটি টাকা বা তার বেশি হলে ২ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ ১৫ বছরে ঋণ পরিশোধ করা যাবে, যা আগে ছিল ১০ বছর।
সাবেক বিআইডিএস মহাপরিচালক মোস্তফা কে মুজেরি মনে করেন, দীর্ঘদিনের পুনঃতফসিল সুবিধার সুফল কেন পাওয়া যাচ্ছে না, সেই কারণ অনুসন্ধান করা এখন সময়ের দাবি। ঋণ বিতরণ ও গ্রহণের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল হতে হবে।
এই প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যারা সুবিধা পেয়েছেন তারা প্রকৃতপক্ষে সেই অর্থের কী করেছেন এবং কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে তা ব্যবহার করেছেন কি না, তা নিবিড়ভাবে তদারকি করতে হবে। একইসঙ্গে ঋণ প্রদানকারী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর দায়িত্ব হলো গ্রাহক ঋণ নিয়ে কী করছেন তা খতিয়ে দেখা। ঋণগ্রহীতাদেরও এই অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহারের বিষয়ে সচেতন হতে হবে। সব অংশীজনের সম্মিলিত দায়িত্বশীল ভূমিকার মাধ্যমেই ব্যাংক খাতের সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।