দেশের উপজেলা পর্যায়ে সম্ভাবনাময় তরুণদের উদ্যোক্তায় পরিণত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন একটি তহবিল চালু করছে। এই কর্মসূচির আওতায় ৬৪টি উপজেলার ৬৪০ তরুণ উদ্যোক্তাকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা করে অর্থায়ন ও অনুদান দেওয়া হবে। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে সংশ্লিষ্ট তফসিলি ব্যাংকের শাখায় আবেদন গ্রহণ শুরু হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তহবিলের বিস্তারিত তুলে ধরেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। মুখপাত্র জানান, এটি কোনো প্রচলিত অর্থে প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রম নয়। এর আওতায় ব্যাংকগুলো তাদের বিদ্যমান শাখা ব্যবহার করে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে উপজেলা পর্যায়ে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান ও চিহ্নিত করবে। তাঁদের ব্যবসায়িক ধারণা ও প্রকৃত অর্থের চাহিদা যাচাইয়ের পর অর্থায়ন করা হবে।
নির্বাচিত উদ্যোক্তারা প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকার প্যাকেজ পাবেন। এর অর্ধেক হবে ব্যাংকঋণ এবং বাকি অর্ধেক অনুদান। গ্রাহক পর্যায়ে সুদ বা মুনাফার হার সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। ঋণের ক্ষেত্রে সহায়ক জামানতের প্রয়োজন হবে না। তবে নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে অনুদানের অর্থ সুদবিহীন ঋণে রূপান্তরিত হবে। সে ক্ষেত্রে ঋণ হিসাবটি প্রচলিত নিয়মে শ্রেণীকৃত হয়ে ঋণগ্রহীতা খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং পরবর্তীকালে ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা হারাবেন।
এই তহবিলের জন্য আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক হতে হবে। আবেদনের শেষ তারিখে তাঁর বয়স ২৮ বছর বা তার কম হতে হবে এবং তিনি সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে বাধ্য। আগে থেকে ব্যবসা পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক নয়; বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক ধারণা থাকলেই আবেদন করা যাবে। কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তশিল্প, মৎস্য, পশুপালন, পর্যটন, সেবা কিংবা প্রযুক্তিভিত্তিক—সব ধরনের বৈধ উদ্যোগ সমান বিবেচনায় আসবে। আবেদন সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে ও সংশ্লিষ্ট উপজেলায় অবস্থিত যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় নির্ধারিত ফর্মের মাধ্যমে জমা দেওয়া যাবে।
প্রাথমিকভাবে ৮টি বিভাগের ৮টি জেলার মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোনা-অন্তর্গত ৬৪টি উপজেলায় এই কর্মসূচি শুরু হবে। প্রতিটি উপজেলা থেকে ১০ জন করে সর্বমোট ৬৪০ জন তরুণ উদ্যোক্তা নির্বাচিত হবেন। ধারাবাহিকভাবে দেশের অন্যান্য জেলার উপজেলাতেও এই কর্মসূচি সম্প্রসারিত হবে। এর আওতায় প্রতি বছর ৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তাকে অর্থায়ন ও সহায়তা করা হবে বলে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিস্তারিত নির্দেশনা জারি করা হবে। পরবর্তী এক মাস আবেদন দাখিলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
কর্মসূচির পরিধি কেবল অর্থায়নেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। নির্বাচিত উদ্যোক্তাগণ উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞ পরামর্শকের ধারাবাহিক পরামর্শ, ব্যবসা নিবন্ধন ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা ও বাজার সংযোগের সুযোগ পাবেন। একজন সফল ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা গড়ে ৩ থেকে ৫ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেন। এ বিবেচনায় এই কর্মসূচি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করে বাংলাদেশ ব্যাংক।