দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, কৃষিতে সারসংকট, অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশা শ্রমিকদের হয়রানি, উপকূলীয় পরিবেশের অবনতি এবং ফুলবাড়ী উন্মুক্ত খনি প্রকল্প নিয়ে নতুন চক্রান্তের অভিযোগ তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। সংগঠনটির সাধারণ সভায় এই বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের সভাপতিত্বে সংগঠনের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এ সভায় দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, হত্যা, ধর্ষণ, শিশু নিপীড়ন ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধমূলক ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় জনমনে নিরাপত্তাহীনতা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি অবিশ্বাস তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে গত আগস্টে রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের দেওয়া বক্তব্যে অসংগতি রয়েছে বলে দাবি জানান তারা। এসব ঘটনার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন কমিটির সদস্যরা।
অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশা জব্দ ও চালকদের হয়রানির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সভায় বলা হয়, বিকল্প গণপরিবহন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে শ্রমজীবীদের ওপর দায় চাপানো যুক্তিসঙ্গত নয়। এ প্রসঙ্গে রিকশা লাইসেন্স প্রদান, স্পিডমিটার স্থাপন, জোনভিত্তিক চলাচলের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ব্যক্তিগত পরিবহন নিয়ন্ত্রণের দাবি জানানো হয়।
উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। কক্সবাজার, সেন্ট মার্টিন ও টেকনাফের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের সমালোচনা করে কমিটি দাবি করে, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন ও স্থানীয় মানুষের মতামত সংগ্রহ ছাড়া কোনো প্রকল্প হাতে নেওয়া উচিত নয়।
এ ছাড়া রংপুর, কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় আমন মৌসুমে সারসংকটের তীব্র অভিযোগ তোলেন বক্তারা। ন্যায্যমূল্যে ও সময়মতো সার সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সভায় ফুলবাড়ী গণ–অভ্যুত্থানের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত প্রচারযাত্রাকে স্বাগত জানানো হয়। ফুলবাড়ী চুক্তি বাস্তবায়ন, মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিল এবং জ্বালানি ও রাষ্ট্রায়ত্ত খাতে বেসরকারীকরণ বন্ধের দাবিতে সংহতি প্রকাশ করা হয়।