ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ মন্তব্য করেছেন, ভারতের ওপর বাংলাদেশের নির্ভরশীলতার ধারণাটি ভিত্তিহীন। সম্প্রতি মুক্তকণ্ঠের ধারাবাহিক আলোচনা অনুষ্ঠান আলাপনে অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, "বাংলাদেশের কোনো প্রয়োজন নেই ভারতের, বরং বাংলাদেশের সহযোগিতা ছাড়া ভারতই অচল হয়ে পড়বে।"

গত কয়েক দশক ধরে দেশে এমন একটি মানসিকতা গড়ে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ করে ফুয়াদ বলেন, "গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের ওপর এমন একটি ধারণা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে যে ভারত ছাড়া বাংলাদেশ চলতে পারবে না। কিন্তু ভারত গরু বা পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করার পর বাংলাদেশের কৃষকরা বরং আরও স্বাবলম্বী হয়েছে।"

সীমান্ত সংঘাত ও জলসম্পদ নিয়ে ভারতের নীতি নিয়ে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "ভারত বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করে না। ৫৬ বছর ধরে তারা সীমান্তে মানুষ মারছে এবং ৫৭টি অভিন্ন নদীতে পানির বেড়া দিয়ে বাংলাদেশের পানির অধিকার হরণ করছে। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে উজানে বাঁধ নির্মাণের ফলে বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ এলাকা মরুভূমিতে পরিণত হওয়ার উপক্রম হয়েছে।"

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রকৃতি নিয়ে তিনি মনে করেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো দ্বিপাক্ষিক মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি, বরং এটি ছিল একটি নমনীয় ও দাসত্বমূলক সম্পর্ক। বাংলাদেশের সহযোগিতা ছাড়া ভারতের সেভেন সিস্টারস ও পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতি ধসে পড়বে। আমরা ভারতের বিরোধী নই, ভারতের আধিপত্যবাদী নীতির বিরোধী। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনে আরও কঠোর অবস্থান নিতে হবে।