সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের মধ্যে নির্ধারিত কর্মঘণ্টা মেনে চলা নিয়ে গুরুতর অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বায়োমেট্রিক উপস্থিতির তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, হাসপাতালের ৯০ শতাংশ চিকিৎসক নির্ধারিত সময়ে অফিসে না আসলেও সময়ের আগেই কাজ শেষ করে ফিরে যাচ্ছেন। এই বিষয়টি তদারকি করতে গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সংশ্লিষ্টদের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে প্রশাসন।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, বায়োমেট্রিক ডেটা পর্যালোচনায় কর্মস্থলে উপস্থিতি ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে ব্যাপক অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। সকাল আটটায় অফিস শুরু হওয়ার পরও সকাল নয়টার পর বহির্বিভাগের ৪৮ শতাংশ এবং অন্তর্বিভাগের ৬৫ শতাংশ চিকিৎসকই হাসপাতালে পৌঁছান। অন্যদিকে, নির্ধারিত ছুটির সময় বেলা দুইটা ৩০ মিনিটের আগেই বহির্বিভাগের ৯৬ শতাংশ এবং অন্তর্বিভাগের ৯০ শতাংশ চিকিৎসক কর্মস্থল ত্যাগ করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে বায়োমেট্রিক উপস্থিতির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, চিকিৎসকদের উপস্থিতি ও প্রস্থানে উল্লেখযোগ্য অসামঞ্জস্য রয়েছে। সকাল নয়টার পরেও বহির্বিভাগের চিকিৎসকদের মধ্যে কেবল ৪৮ শতাংশ এবং অন্তর্বিভাগের চিকিৎসকদের মধ্যে ৬৫ শতাংশ কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন। অর্থাৎ, নির্ধারিত সকাল আটটার এক ঘণ্টা পরেও অনেক চিকিৎসকই দেরিতে আসছেন। এছাড়াও দুপুর দুইটা ৩০ মিনিটের আগেই বহির্বিভাগের ৯৬ শতাংশ এবং অন্তর্বিভাগের ৯০ শতাংশ চিকিৎসক ছুটি নিয়ে চলে যাচ্ছেন, যা নির্ধারিত কর্মঘণ্টা মেনে চলার ক্ষেত্রে গুরুতর অসঙ্গতি তৈরি করেছে।
এই বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির জানান, "হাসপাতালে রোগীদের নিরবচ্ছিন্নভাবে সুষ্ঠু চিকিৎসাসেবা পরিচালনা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য চিকিৎসকদের নির্ধারিত কর্মঘণ্টা মানার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।"
তিনি বলেন, "চিকিৎসকদের সতর্ক করা হয়েছে, যাতে তারা নির্দিষ্ট সময়ে হাসপাতালে উপস্তিত হয়ে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন ও রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে পারেন। নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিতি ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে একই ধরনের নিয়ম অনুসরন করতে হবে। পুনরায় তা পরিলক্ষিত হলে সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"