দেশে ডেঙ্গু সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার কমে না। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে আজ বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়কালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও পাঁচজন মারা গেছেন। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১১০ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু হয়েছে ১০৭ জনের। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮ হাজার ২৮০ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন খুলনা বিভাগে—১৯০ জন। এরপর চট্টগ্রামে ১৭৫ জন, ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় ১৭১ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৩৫ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩৪ জন, বরিশালে ১১০ জন, রাজশাহীতে ৯১ জন, ময়মনসিংহে ৬৫ জন, রংপুরে ৩২ জন এবং সিলেটে ৭ জন ভর্তি হয়েছেন।

মৃত পাঁচজনের মধ্যে দুজন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার, দুজন ময়মনসিংহ বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকার এবং একজন বরিশাল বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকার বাসিন্দা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৩৮ হাজার ২৮০ রোগীর মধ্যে ৩৫ হাজার ৪৩৩ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৪৮ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ২ হাজার ৭৪০ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে ২৬৯ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৭০ জন এবং বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ৯৯ জন।

এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা বেশি। মোট রোগীর ৬২ দশমিক ১ শতাংশ পুরুষ ও ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ নারী। তবে মৃত্যুর ক্ষেত্রে নারী বেশি। এ বছর ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ১০৭ জনের মধ্যে ৫৫ দশমিক ১ শতাংশ নারী ও ৪৪ দশমিক ৯ শতাংশ পুরুষ।

বয়সভিত্তিক তথ্যেও তরুণদের আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। ২১ থেকে ২৫ বছর বয়সী ৫ হাজার ৪৫৮ জন এবং ২৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী ৫ হাজার ৪৫২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন, অর্থাৎ ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৯১০।

চলতি বছর ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ৯ হাজার ৬৭৩ জন এবং এর বাইরে সারা দেশে ২৮ হাজার ৬০৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাসভিত্তিক হিসাবে আগস্টে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন ২০ হাজার ৫৩৬ জন, যা এ বছরের অন্য যেকোনো মাসের তুলনায় বেশি। জুলাইয়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৯ হাজার ২০৬ জন। সেপ্টেম্বরের প্রথম দুই দিনেই ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৪৩৪ জন।