চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর থানার শ্যামলী আবাসিক এলাকায় গত মঙ্গলবার ভুয়া পুলিশ ও সাংবাদিকের ছদ্মবেশে পাঁচ ব্যক্তি এক পরিবারের তিন নারীর কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। বিষয়টি নিয়ে বুধবার ভুক্তভোগী নারী থানায় মামলা করেছেন। মামলায় নামজাদি পাঁচ আসামির মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এজাহার ও পুলিশ সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ৫৫ বছর বয়সী ওই নারী তাঁর দুই পুত্রবধূকে নিয়ে বাসায় ছিলেন। স্বামী ও দুই ছেলের কাজের সূত্রে বাইরে থাকাকালীন বাসায় ঢোলে পাঁচ ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ পরিচয় দেন। পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তাঁরা সাংবাদিক বলে পরিচয় দেন এবং এই ঘরে ‘অসামাজিক কার্যকলাপ’ চলছে এমন তথ্য পেয়ে বিভিন্ন কক্ষ তল্লাশি শুরু করেন।
একপর্যায়ে তাঁরা মুঠোফোনে ওই তিন নারীর ভিডিও ধারণ করতে শুরু করেন। বাসাটি নিজের বলে জানানো হলেও তাঁরা এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি ও হয়রানির হুমকি দেওয়া হয়। টাকা না পাওয়ায় আসামিরা বাসায় ভাঙচুর চালান। তাদের চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে তারা হুমকিমূলক আচরণ করেন। পরে ৯৯৯-এ ফোন করলে হালিশহর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা পালানোর চেষ্টা করলে দুজনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি ওয়াকিটকি ও মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে।
মামলায় সাখাওয়াত হোসেন (৪০), মো. মাইনউদ্দিন (৪৬), মো. জাহিদ (৩০), মো. মোস্তাফিজ (৩৬) ও বাবুল (৩৬)-কে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে সাখাওয়াত হোসেন ও মো. মাইনউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদিন মণ্ডল মুক্তকণ্ঠকে বলেন, প্রথমে তাঁরা পুলিশ এবং পরে সাংবাদিক পরিচয় দেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। আসামিদের কাছ থেকে ওয়াকিটকি ও মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।