দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আমানত ফেরতের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় আমানত উত্তোলনের আবেদন গ্রহণ কার্যক্রম চালু হলেও প্রথম দিনেই প্রায় ১৮ হাজার গ্রাহক আবেদন করেছেন। এতে মোট ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার চাহিদা তৈরি হয়েছে।
আবেদনকারীদের মধ্যে এককালীন পুরো আমানত ফেরতের জন্য ২ হাজার ৩৬৭ জন আবেদন করেছেন, যাদের জন্য ২৪৪ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রাহকদের আবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় অর্থের চাহিদা নিরূপণ করে ধাপে ধাপে অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রথম দিন অতিরিক্ত ভিড়ের আশঙ্কা থাকলেও বাস্তবে শাখাগুলোতে তেমন চাপ দেখা যায়নি। সকাল থেকেই প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তারা বিভিন্ন শাখায় আবেদন গ্রহণ, তথ্য যাচাই এবং গ্রাহকদের নির্দেশনা তদারকি করছেন।
দীর্ঘদিনের সীমাবদ্ধতা ও অনিশ্চয়তার পর এই উদ্যোগে নতুন আশাবাদ তৈরি হয়েছে। এক আমানতকারী বলেন, "আমি প্রায় ১২ বছর ধরে ব্যাংকটিতে আমানত রেখে আসছি। এখন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেওয়ায় আমি সন্তুষ্ট। আমার প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগে পরিচালিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ও ভালোভাবে পরিচালিত হবে।"
ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, সরকারি ঘোষণার পর গ্রাহকদের মধ্যে আস্থা ফিরে এসেছে। এক কর্মকর্তা বলেন, "সরকার সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে স্বাভাবিক লেনদেনের সুযোগ দেওয়ার ঘোষণায় গ্রাহকদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে। এখন ব্যাংকের ওপর যে দায়িত্ব এসেছে, তা যথাযথভাবে পালন করাই প্রধান লক্ষ্য।" অন্য এক কর্মকর্তা জানান, "১ সেপ্টেম্বর থেকে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ উত্তোলনের আবেদন নেওয়া হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ৭ সেপ্টেম্বর থেকে আমানত ফেরত দেওয়ার বিষয়ে যে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী তাদের অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।" তিনি আরও বলেন, "গ্রাহকরা এসে নির্দিষ্ট ফরমে তাদের হিসাব থেকে কত টাকা উত্তোলন করতে চান, তা উল্লেখ করে আবেদন জমা দিচ্ছেন। এসব আবেদন প্রক্রিয়াজাত করার পর ৭ সেপ্টেম্বর থেকে অর্থ পরিশোধ শুরু হবে। কোন গ্রাহক কবে অর্থ পাবেন, তা পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে জানিয়ে দেওয়া হবে।"
অর্থ জোগানের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের আবেদনের ভিত্তিতে চাহিদা নিরূপণ করবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনে আর্থিক সহায়তা দেবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, "গ্রাহকদের আবেদনের মাধ্যমে যে পরিমাণ অর্থের চাহিদা তৈরি হবে, তার ভিত্তিতেই জোগানের পরিকল্পনা করা হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেহেতু প্রয়োজনীয় সহায়তার নিশ্চয়তা দিয়েছে, তাই জনগণের স্বার্থ ও আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ব্যাংকগুলোকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। গ্রাহকদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি যথাযথভাবে রক্ষা করা হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।"
দীর্ঘদিন ধরে চলমান আর্থিক অনিশ্চয়তা ও আমানতকারীদের উদ্বেগ কমাতে এই প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অর্থ ফেরত শুরু হলে গ্রাহকদের আস্থা আরও দৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। (সূত্র: চ্যানেল ২৪)