রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে গত ১৭ আগস্ট দিবাগত রাতে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চার শিশুর জন্ম হয়। প্রসূতি তিশা খাতুন ও তার স্বামী নাইমুল ইসলাম এই চার সন্তানকে নিয়ে বর্তমানে হিমশিম খাচ্ছেন। নবজাতকদের মধ্যে দুটি ছেলে ও দুটি মেয়ে রয়েছে।
চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত ৩৮ থেকে ৪০ সপ্তাহে শিশুর জন্ম হয়। তবে এই চার শিশু ৩৪ সপ্তাহে জন্মগ্রহণ করায় তাদের ওজন কম ছিল। নির্ধারিত সময়ের আগে জন্ম নেওয়ায় তাদের রামেক হাসপাতালের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের স্ক্যানু ইউনিটে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। চারটি বাচ্চার মধ্যে দুজনের ওজন এক কেজি করে। একটির ওজন ১ কেজি ১০০ গ্রাম, অন্যটির ১ কেজি ৩০০ গ্রাম। চিকিৎসকেরা বলছেন, দেড় থেকে দুই কেজি ওজন হলে কিছুটা স্বাভাবিক ধরা যায়। এ কারণেই তাদের স্ক্যানু ইউনিটে রাখা হয়েছিল। ১৯ আগস্ট দুপুরে তাদের খুব অল্প করে মুখে খাবার দেওয়া শুরু করা হয়েছে। পরবর্তীতে ২৪ আগস্ট তাদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
নবজাতকদের মায়ের নাম তিশা খাতুন। তিনি রাজশাহী নগরের সিপাইপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী নাইমুল ইসলামের রাজশাহী নগরের কোর্ট স্টেশন এলাকায় চায়ের দোকান রয়েছে। সেটিই তাঁর একমাত্র আয়ের উৎস। বাড়িতে নেওয়ার পর সন্তানেরা কেমন আছে জানতে চাইলে নাইমুল ইসলাম বলেন, একটা চায়ের দোকানের ওপরে তাঁর সংসার চলে। এ অবস্থায় চারটি বাচ্চা নিয়ে তাঁর হিমশিম অবস্থা।
নাইমুল ইসলাম জানান, তাঁর বাড়ি সিটি করপোরেশনের আট নম্বর ওয়ার্ডে। তিনি ওয়ার্ড কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে নাকি মা ও সন্তানদের জন্য সহায়তা পাওয়া যায়। কিন্তু সেখান থেকে বলা হয়েছে, মায়ের ২১ বছর না হলে হবে না। নাইমুল ইসলাম বলেন, তাঁর স্ত্রীর বয়স ২১ বছর ৭ মাস। এ জন্য দিল না। তিনি শুনেছেন উপজেলায় নাকি ইউএনওর কাছে গেলে সাহায্য পাওয়া যায়। সেই সন্তান জন্মের আগে সহযোগিতার জন্য পবা উপজেলায় গিয়েছিলেন। সারা দিন লাইনে দাঁড়িয়ে কাগজ জমা দিয়ে এসেছেন। কিন্তু এখনো সহায়তা পাননি।