মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাগেরহাট জেলা আদালতে সুন্দরবনের চারটি জলদস্যু ও বনদস্যু বাহিনীর মোট ৫২ সদস্যকে নিয়মিত মামলায় সোপর্দ করেছে পুলিশ। এর আগে গত সোমবার (৩১ আগস্ট) এসব আসামী র‍্যাব-৬-এর কাছে আত্মসমর্পণ করেন। শরণখোলা থানা থেকে ২৩ জন এবং মোংলা থানা থেকে ২৯ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকেয়া খানম ও মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান।

র‍্যাব-৬ সূত্রে জানা যায়, আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন এবং আফতাব বাহিনীর ৮ সদস্য রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে জলদস্যু ও বনদস্যুদের অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালসহ বননির্ভর মানুষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান ও সরকারের পুনর্বাসন উদ্যোগের ফলে এর আগেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দস্যু আত্মসমর্পণ করেছিলেন। তবে সম্প্রতি নতুন কিছু দস্যুচক্রের তৎপরতা এবং পূর্বে আত্মসমর্পণকারী কয়েকজনের পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার তথ্য পেয়ে নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়। র‍্যাব-৬-এর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানিক তৎপরতা, বনের প্রতিকূল পরিবেশ ও দস্যু জীবনের অনিশ্চয়তার কারণে অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আগ্রহী হয়েই এসব সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন।

র‍্যাব-৬-এর মিডিয়া অফিসার ও ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার সৈয়দ ফজলুর রহমান বলেন, "একসঙ্গে চারটি বাহিনীর ৫২ সদস্যের আত্মসমর্পণের ফলে সুন্দরবনে দস্যুদের সাংগঠনিক সক্ষমতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অনেকাংশে কমবে। এতে বননির্ভর মানুষের নিরাপদে জীবিকা নির্বাহের পরিবেশ সুদৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপদ চলাচল ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।"

তিনি আরও জানান, "সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখা এবং বননির্ভর জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা নজরদারি ও আভিযানিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। দস্যুতা নিয়ন্ত্রণে থাকলে অবৈধভাবে কাঠ ও বনজ সম্পদ আহরণ, বন্যপ্রাণী শিকার ও পাচারসহ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করা সহজ হবে বলে আশা করছে র‌্যাব।"