ভবিষ্যতে দেশে কোনো সামরিক স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদী বা মাফিয়া শক্তির উত্থান ঠেকাতে একটি কার্যকর সাংবিধানিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, "আমরা এমন একটি সাংবিধানিক ধারা ও পদ্ধতি প্রবর্তন করতে চাই, যার মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতে কোনো সামরিক স্বৈরাচারের উৎপত্তি হবে না। কোনো স্বৈরাচারী শক্তির উৎপত্তি হবে না। কোনো ফ্যাসিবাদ ও মাফিয়া শক্তির উৎপত্তি হবে না।"

সালাহউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের লড়াই করেছে এবং বিএনপির ইতিহাসও মূলত সেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ইতিহাস। তিনি বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে ১৯ দফা কর্মসূচি দিয়েছিলেন। এই কর্মসূচির ভিত্তিতেই বিএনপি রাজনীতি করে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৯০ সালে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে বিএনপির ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "বিএনপির ইতিহাস বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের ইতিহাস।"

তিনি আরও বলেন, ১৯৯১ সাল থেকে বেগম খালেদা জিয়া দেশে সংসদীয় রাজনীতির প্রবর্তন করেন এবং ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু হয়। নারী শিক্ষা ও নারীর অগ্রগতিতে বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচির ভূমিকা রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। একসময় ওয়ান-ইলেভেনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ধারা বাধাগ্রস্ত হলে দেশে নতুন করে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থান ঘটে, যা থেকে মুক্ত হতে ছাত্র-জনতা সংগ্রাম করেছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের কথা উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এখন বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও সাম্যভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, "আমরা সেই রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতিষ্ঠা করতে চাই, যে রাষ্ট্রব্যবস্থার বহুদলীয় গণতন্ত্রের স্বপ্ন আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা দেখেছেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের শহীদরা দেখেছেন।"

তারেক রহমানের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বলেন, "তিনি বলেছেন, আই হ্যাভ এ প্ল্যান। আমরা বলি, উই হ্যাভ এ প্ল্যান।"

জনগণের কল্যাণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি পরিবার কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে সর্বস্তরের মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার কথা বলেন। পাশাপাশি ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় সম্মান ও ভাতা দেওয়ার কর্মসূচি অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপির কর্মসূচি জনগণভিত্তিক ও জনকল্যাণমূলক। সাম্য, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদী। এছাড়া দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন।