চলতি বছরের আগস্ট মাসে দেশব্যাপী অন্তত ৫১ জন সংবাদকর্মী বিভিন্ন ধরনের হামলা, আইনি হয়রানি, হুমকি ও পেশাগত বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জার্নালিস্টস (বিএজে) প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, এদের মধ্যে ৪২ জন শারীরিকভাবে আহত হয়েছেন। পাশাপাশি পাঁচজন আইনি হয়রানির শিকার হলে চারজন হুমকি, হেনস্তা ও কাজে বাধার মুখে পড়েছেন।

সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, কিশোর গ্যাং ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হাতে ১৮টি ঘটনায় সাংবাদিকরা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন। আহত সাংবাদিকদের মধ্যে ডেইলি স্টারের জাহিদ হাসান ও ওমর আলি সোহাগ, যমুনা টিভির রফিকুল ইসলাম চৌধুরী, স্টার নিউজের মোহাম্মদ জুবাইর ও আবদুল্লাহ আল মারুফ, সময় টিভির বিএম ইস্রাফিল, নিউজ টুয়েন্টিফোরের বিধান মজুমদার, বাংলাদেশ বেতারের রাব্বি আহমেদ ও সমকালের নাজমুল ইসলামের নাম উল্লেখযোগ্য।

রাজধানীর বিজয় সরণি এলাকায় এক পথচারী নারীকে পুলিশের মারধরের ঘটনার ভিডিও ধারণ করায় গ্লোবাল টেলিভিশনের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার বুলবুল হোসেনকে পুলিশ ভ্যানে তুলে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের খবর সংগ্রহের সময় কামরুজ্জামান কায়েসসহ ছয় সাংবাদিক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। একই ধরনের সংঘর্ষের খবর নিতে বকশীবাজারে আরও দুই সাংবাদিক আহত হন। এ ছাড়া কক্সবাজারে শুল্ক ফাঁকি চক্রের হামলায় চারজন এবং যশোরে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দফা হামলায় পাঁচ স্থানীয় সাংবাদিক আক্রান্ত হওয়ার তথ্য সংগঠনটি দিয়েছে।

আইনি হয়রানির শিকার পাঁচজন ও হুমকি-হেনস্তার মুখে পড়া চারজন সাংবাদিকের নাম প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের ওপর এই ধরনের হামলা, বাধা ও আইনি হয়রানির পেছনে সরকারের বিচারহীনতার সংস্কৃতির ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করছে বিএজে। সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রভাব বা পেশিশক্তি ব্যবহার করে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এবং মুক্ত গণমাধ্যমের জন্য অশনিসংকেত। বিষয়টি নিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংগঠনটি দাবি জানিয়েছে।