চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারি ২০২৬’-এর তথ্য সংগ্রাহক ও সুপারভাইজার নিয়োগ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রিয়াংকা দাসের বিরুদ্ধে জনসম্মুখে আপত্তিকর ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে নাচোল ও কসবা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) দুই চেয়ারম্যানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব জিয়াউর রহমানের স্বাক্ষরিত রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে গত ২৪ আগস্ট প্রকাশিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সাময়িক বরখাস্ত হওয়া জনপ্রতিনিধিরা হলেন নাচোল ইউপি চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম ও কসবা ইউপি চেয়ারম্যান জাকারিয়া আল মেহরাব। উভয়েই স্থানীয় বিএনপির প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, গত ১০ আগস্ট স্বেচ্ছাসেবী ও সুপারভাইজার নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পরপরই অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রশাসনিক শৃঙ্খলাবিরোধী ও প্রত্যাশিত শালীনতার পরিপন্থী বক্তব্য দেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাদের এ আচরণ দায়িত্বশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার সাথে সাংঘর্ষিক বলে মনে করে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৪(৪)(ঘ) ধারায় অপরাধ সংঘটনের দায়ে একই আইনের ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী তাদের সাময়িক বরখাস্তের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ১০ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় না থাকায় যোগ্যদের বঞ্চিত করে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে পছন্দের লোকজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ এনে নাচোল পৌর ও উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ইউএনও কার্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন।

বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ জানান, মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনটি গত ২৪ আগস্ট জারি করা হলেও কার্যকর হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্টদের কাছে দাপ্তরিক নোটিশ পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে।

বরখাস্তের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে নাচোল ইউপি চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমান ইউএনও আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে কাজ করছেন এবং ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগে স্বজনপ্রীতি করে আওয়ামী লীগের লোকজনকে নিয়োগ দিয়েছেন। আমরা এই চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করেছি, কোনো অন্যায় করিনি। নোটিশ পাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তারা প্রশাসনিক ও আইনগতভাবে যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন।

অন্যদিকে, কসবা ইউপি চেয়ারম্যান জাকারিয়া মেহরাব বরখাস্তের নোটিশ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে জানান, তিনি নোটিশ হাতে পেয়েছেন। এতে উল্লেখিত নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে যথাযথ ও আইনানুগ জবাব দাখিল করবেন।