নভেম্বরে দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে ৯ দফা দাবি ও পরামর্শ জমা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন ভবনে কেন্দ্রীয় সচিবালয় ও নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সর্বজনগ্রাহ্য করার লক্ষ্যে তারা ৯টি দাবি উত্থাপন করেন। বেশ কয়েকটি বিষয়ে কমিশনের অসহায়ত্ব পরিলক্ষিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং নির্বাচন কমিশন কোনো বিশেষ দলীয় সরকারের চাপের মুখে কাজ করছে কি না, এমন প্রশ্ন তোলেন।
দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে যোগ্য করার দাবি জানানো হয়েছে। তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না দিলে বৈষম্য তৈরি হবে। সংবিধানের লঙ্ঘন ও নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন হবে। এছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো দলের নেতা—যিনি পদে আছেন—তাকে স্থানীয় নির্বাচনে অযোগ্য করার দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
সরকারি কর্মকর্তাদের বিষয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব শামসুল আলম বিএনপির একটি সাব কমিটিতে ছিলেন। এটি আইনের পরিপন্থি। এ বিষয়ে সরকারকে জানাতে বলা হয়েছে। শামসুল আলম ইসির অতিরিক্ত সচিব থাকলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। এ ছাড়া স্থানীয় সরকারে প্রশাসক হিসেবে যেসব ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাদের আসন্ন নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, মন্ত্রী-এমপিরা যাতে কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা করতে না পারে, এই দাবি জানানো হয়েছে বলে জানান গোলাম পরওয়ার।
দাবিগুলো গ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, দাবি মেনে নিবে কিনা তা সময়ই বলবে। তবে আমরা হতাশ না, দাবি মানবে বলে আশাবাদী। এরই মধ্যে কয়েকটি দাবিতে কমিশন এগ্রি করেছে।
নির্বাচনী কৌশল নিয়ে তিনি বলেন, জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, দলীয় মনোনয়ন দেবে না জামায়াত। যার যার ইচ্ছা নির্বাচন করতে পারবে। জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করবে না। ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যান্য দল প্রার্থী দিলেও কোনো কনফ্লিক্ট হবে না।