নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে সৌদি আরবফেরত এক প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে সন্দেহভাজনদের বাড়ি ঘেরাও করে তিন যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ছমদ আলী চেয়ারম্যানের নতুন বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ২১ বছর প্রবাসে কাটানোর পর ছয় মাস আগে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন আবদুল আলীম। তার ফেরার খবর পেয়ে চরএলাহী ইউনিয়নের উড়িরচরের বাসিন্দা শাহীনের যোগসাজশে একদল ডাকাত ওই এলাকায় আসে বলে অভিযোগ করা হয়। রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক তিনটার দিকে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকাকালীন ৭ থেকে ৮ জন মুখোশধারী ব্যক্তি বসতঘরের কাঠের দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। ডাকাতেরা আবদুল আলীম ও তার ছেলে সাইফ আলীকে হাত-পা বেঁধে মুখ ঢেকে জিম্মি করে রাখেন। এরপর তারা পরিবারের নারী সদস্যদের কাছ থেকে একটি স্বর্ণের চেইন, তিনটি স্বর্ণের আংটিসহ আনুমানিক এক ভরি দুই আনা স্বর্ণালংকার এবং একটি আলমারি থেকে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা লুটে নেন। প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট ঘরে অবস্থান করে সামনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায় ডাকাতেরা।

ঘটনার পর রংমালা বাজারের পাহারাদাররা দ্রুত হেঁটে যাওয়া এক যুবককে সন্দেহ করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে স্থানীয় লোকজন সাকিবের বাড়ি ঘেরাও করে তাকে এবং তার দুই সহযোগী ফখরুল ইসলাম নাঈম ও রিয়াজ উদ্দিনকে আটক করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের নিজেদের হেফাজতে নেয়।

আটক তিনজন হলেন—রামপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মাইনউদ্দিনের ছেলে রিয়াজ উদ্দিন (২১), একই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত ইছহার ছেলে ফখরুল ইসলাম নাঈম (২১) এবং চট্টগ্রাম বন্দর এলাকার সল্ট গোলা ক্রসিংয়ের মৃত শাহজাহানের ছেলে মো. সাকিব (২২)।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকীম জানান, সন্দেহজনক অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তিনজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। ডাকাতির সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। ওসি আরও জানান, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।