পাবনা জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ গত ৩০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করেন। তারা প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আলোকচিত্রী ও পাবনা জেলা জাসাসের আহ্বায়ক খালেদ হোসেন পরাগের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, সরকার ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং অসদাচরণের অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। বিষয়টি তুলে ধরে সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে যুগ্ম আহ্বায়ক নুর মোহাম্মদ মাসুম বগা সাংবাদিকদের কাছে একটি লিখিত অভিযোগপত্র সরবরাহ করেন। এতে উল্লেখ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীকে হুমকি-ধমক দেওয়া এবং বিভিন্ন আইডি থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রচারিত হচ্ছে। এসব ঘটনায় জেলা বিএনপির নেতারা সাধারণ মানুষের নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছেন। অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য যখনই খালেদ হোসেন পরাগের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়, তিনি উত্তেজিত হয়ে নেতাদের সঙ্গে অসদাচরণ করেছেন। দেশের জনগণের কাছে দল ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ খান মন্টু, আবু ওবায়দা শেখ তুহিন, মাহমুদুন্নবী স্বপন, মোসাব্বির হোসেন সঞ্জু, সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক একেএম মুসা, সদস্য সচিব রেহানুল ইসলাম বুলাসহ অন্যরা। লিখিত অভিযোগে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাকসুদুর রহমান খন্দকার, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ খান মন্টু, নুর মোহাম্মদ মাসুম বগা, আবু ওবায়দা শেখ তুহিন, মাহমুদুন্নবী স্বপন ও মোসাব্বির হোসেন সঞ্জু স্বাক্ষর করেন।
অভিযুক্ত খালেদ হোসেন পরাগের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, "তোমার যা খুশি লেখো। ওরা কী বলেছে, না বলেছে তা নিয়ে আমার ভাবার সময় নেই। ওদের কথার দুই পয়সা দাম দিই না আমি। যা খুশি লেখো তোমরা।"
এর আগে গত ২ আগস্ট পাবনায় ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালিত হয়। সেখানেও খালেদ হোসেন পরাগের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমি দখল ও সাংবাদিকদের হুমকিসহ বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন সংগঠনের নেতারা।