জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের ওপর তির্যক ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ উঠিয়েছেন। রাজধানীর মগবাজারে আজ সোমবার বিকেলে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি চট্টগ্রাম অভিমুখে আসন্ন লংমার্চের প্রস্তুতি, যানজট ব্যবস্থাপনা ও সরকারের নীতিমালা নিয়ে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গায় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের ওপর আক্রমণ করা হচ্ছে। সরকার বলছে, সংবিধানের কিছু সংশোধনের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে জুলাইয়ের রক্তের প্রতিদান দেবে। তবে সনদ বাস্তবায়নে জনগণের সংশয় কাটছে না। সরকার লংমার্চ বাধাগ্রস্ত করে এই অনাস্থা যেন আর না বাড়ায়।
সরকার জনদুর্ভোগ দূর করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। নিজেদের দেওয়া ওয়াদা অনুযায়ী গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে দ্বিচারিতা করছে। আস্থাহীনতার সংকট নিয়ে সরকার ছয় মাস পার করেছে।
সরকার যে পরমতসহিষ্ণু এবং গণতন্ত্রের প্রতি আন্তরিক, লংমার্চ কর্মসূচিতে বাধা না দিয়ে তার প্রমাণ দিতে বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।
চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চের বিষয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত এক ঘণ্টাব্যাপী সমাবেশ হবে রাজধানীর শাপলা চত্বরে। এরপর প্রথম পথসভা হবে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে। পরের পথসভা হবে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে। তারপর ফেনীর মহিপাল ও চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে হবে। সর্বশেষ হবে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে।
সব কটি পথসভায় ১১ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। তবে সবাই কথা বলবেন না। কোন পথসভায় কারা কথা বলবেন, সেটি আগে থেকে নির্দিষ্ট থাকবে। এ ছাড়া গাড়িবহরে থাকা ১১ দলের নেতা-কর্মীরা গাড়ি থেকে নামতে পারবেন না।
লংমার্চের গাড়িবহরে হাজারের মতো গাড়ি থাকবে জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, এসব গাড়ির বাইরে পথে পথে আরও গাড়ি যুক্ত হবে।
বিরোধী দলের লংমার্চে কত লিটার তেল লাগবে, সেটির হিসাব করছেন সরকারের কোনো কোনো মন্ত্রী। তাঁরা বলছেন এই লংমার্চে এক লাখ লিটার তেল খরচ হবে। এটা হাস্যকর কথা। গাড়ি চলবে। আগে যেগুলো রাস্তায় চলত, সেগুলো এখন লংমার্চের গাড়িবহরে চলবে। গাড়ি বন্ধ করে তেল সমস্যার সমাধান করা যাবে না। গাড়ি চলবে, সংকটের সমাধানও করতে হবে।
রাস্তার দুই লেনের একটিতে লংমার্চের গাড়িবহর যাবে, অন্যটি সাধারণ যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখার চেষ্টা করা হবে। তবে বড় পরিসরের লংমার্চে স্বাভাবিকভাবেই মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটে। এ জন্য তাঁরা ওই রুটের মানুষদের কাছে আগাম দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চেয়েছেন।
লংমার্চের পথে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা এখনই তাঁরা করছেন না। পুলিশের আইজি ছাড়াও স্থানীয় পর্যায়ে পুলিশকে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপিসহ অন্য দলগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক সুসম্পর্ক বজায় রেখে সহযোগিতা করার অনুরোধ করা হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, লংমার্চে কোনো বাধা এলে কঠিন প্রতিরোধ করা হবে। বাধা এলে লড়াই বাধবে, তাতে ১১–দলীয় ঐক্য জিতবে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন বলেন, দেশের মানুষ লংমার্চের দিকে তাকিয়ে আছে। কারণ, জ্বালানিসংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ। সে কারণে লংমার্চও সফলভাবে সম্পন্ন হবে।
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেন, তাঁরা আশা করছেন, লংমার্চে দলীয় সন্ত্রাসীদের দিয়ে কোনো বাধা দেওয়া হবে না। বিরোধী দলের চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ ঘোষণার পর কয়েক দিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কৃত্রিম যানজট তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। লংমার্চের দিন সরকারের পক্ষ থেকে কৃত্রিম যানজট তৈরি করা হবে না বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
লংমার্চে তেল খরচের হিসাবের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, প্রধানমন্ত্রী লাল বাসে সারা দেশ ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এসব সফরে অনেক সফরসঙ্গী নিয়ে যাচ্ছেন। বিমানে যাতায়াত করছেন। সেখানে তেলসংকট না হলে বিরোধী দলের লংমার্চেও তেলের সংকট হবে না।
মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির আব্দুল মাজেদ আতহারী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ফখরুল ইসলাম প্রমুখ।