মন্ত্রিসভা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় বেতন স্কেল অনুমোদন করেছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেল ৫টায় সচিবালয়ের নতুন এক নম্বর ভবনের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতন স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। এর কার্যকারিতা চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ধরা হয়েছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী প্রথম গ্রেডে সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন বেতন স্কেলে প্রথমবারের মতো সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য মাসিক ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য একজন কর্মচারী মাসে ৩ হাজার টাকা পাবেন। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অতিরিক্ত পরিচর্যা ও পরিবারের বাড়তি ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছিল, পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন পে-স্কেলের মূল বেতনের ৩০ শতাংশ ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে পারে। পরের বছরের শুরুতে আরও ৩৫ শতাংশ এবং তার পরবর্তী অর্থবছরের জুলাইয়ে অবশিষ্ট অংশ কার্যকর করার প্রস্তাব করা হয়। এরপর ওই অর্থবছরের জানুয়ারি থেকে বিভিন্ন ভাতা কার্যকর করার সুপারিশ করা হতে পারে।
অষ্টম পে কমিশন গঠনের প্রায় এক দশক পর অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় পে কমিশন গঠন করে। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন এই কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। বাস্তবায়ন তদারকির জন্য ২১ এপ্রিল ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়, যার প্রধান করা হয় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণিকে।