মায়ের মৃত্যুর পর সরকারি পেনশনের টাকা তুলতে গিয়ে বারবার ঘুষের দাবির মুখে পড়তে হয়েছিল পরিবারের সদস্যদের। নিজের পাসপোর্ট করতে গিয়েও একই অভিজ্ঞতা হয় ১৭ বছরের শাহেদ শরীফ আহমেদের। প্রশাসনের পদে পদে ঘুষের এই অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ‘ঘুষ.সাইট’ (ghush.site) নামের ওয়েবসাইটটি তৈরি করে সে।
‘ঘুষ.সাইট’ তৈরির নেপথ্যের কারণ নিয়ে মুক্তকণ্ঠতে খবর প্রকাশের পর ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের দুই কর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশ পাওয়া দুজন হলেন, হিসাব সহকারী এ এইচ এম নাদিরুল হাসান (সবুজ) ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মজিবুর রহমান।
কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো তার কারণ লিখিতভাবে জানাতে দুজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আজ সোমবার দুপুরে তাঁদের নোটিশ দেন ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীন। তিনি বলেন, কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো তার কারণ লিখিতভাবে জানাতে দুজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে আজ সোমবার সকালে ‘মায়ের মৃত্যুর পর পেনশনের টাকা পেতে ঘুষ দাবি, ক্ষোভে কিশোর শাহেদের ‘ঘুষ.সাইট’—শিরোনামে মুক্তকণ্ঠের অনলাইনে খবর প্রকাশের পর প্রয়াত শিক্ষকের স্বামী শরীফুল ইসলামকে (শামীম) উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ডাকা হয়। বেলা ১১টার দিকে তিনি উপজেলা শিক্ষা অফিসে যান। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করছিলেন।
শরীফুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘সংবাদ প্রকাশের পর আজ খুব দ্রুত কাজ হতে শুরু করেছে। আগের তৈরি নথিপত্র পরিবর্তন করে নতুন নথি প্রস্তুতের কাজ করা হচ্ছে৷ এটি করতে আরও কিছু সময় লাগবে। আশা করছি দ্রুত আমাদের পাওনা পেয়ে যাব।’
‘ঘুষ.সাইট’ তৈরি করা শাহেদ শরীফ আহমেদ ময়মনসিংহ ক্যান্টনমেন্ট এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বাবার সঙ্গে থাকে। তার মা আমিনা খাতুন ময়মনসিংহ সদরের আজমতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। ২০২২ সালের ১৬ ডিসেম্বর শারীরিক অসুস্থতায় তিনি মারা যান।
‘ঘুষ.সাইট’ তৈরি করা শাহেদ শরীফ আহমেদ ময়মনসিংহ ক্যান্টনমেন্ট এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বাবার সঙ্গে থাকে। সে ব্রিটিশ কাউন্সিলের অধীন কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনালের এ-লেভেলে পড়াশোনা করছে। তার বাবা শরীফুল ইসলাম (শামীম) আগে সৌদি আরবের একটি ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন। শাহেদের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার পূর্বপাড়া এলাকায়। তার মা আমিনা খাতুন ময়মনসিংহ সদরের আজমতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। ২০২২ সালের ১৬ ডিসেম্বর শারীরিক অসুস্থতায় তিনি মারা যান।
পরিবারটি জানায়, চাকরির ১৩ বছরের মাথায় আমিনা খাতুনের মৃত্যুর পর তাঁর প্রভিডেন্ট ফান্ডের (ভবিষ্য তহবিল) প্রায় ৭ লাখ টাকা তুলতে ট্রেজারি অফিসে ১০ হাজার টাকা, জেলা শিক্ষা অফিসে ২০ হাজার টাকা এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ৮ হাজার টাকাসহ মোট ৩৮ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। কল্যাণ তহবিলের ২ লাখ টাকা এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্য ৮ লাখ টাকার জন্য শিক্ষা কার্যালয়–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন।