নওগাঁর রাণীনগর থানা হেফাজতে থাকা একটি বাছুরসহ মোট ছয়টি গরুর নিলাম কার্যক্রম আদালতের নির্দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। সম্পর্কিত আবেদনটি বিচারাধীন থাকায় বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও আদালত সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে নওগাঁর রাণীনগর, আত্রাই, বদলগাছী ও মহাদেবপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েকটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। অপরাধ দমনে জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানের আওতায় ১৪ জুলাই নাটোরের নলডাঙ্গা থেকে আসলাম নামের এক চোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ জুলাই ভোরে নাটোরের সিংড়া উপজেলার ছোট চৌগ্রাম এলাকার অসিত নামের এক ব্যক্তির বসতবাড়ি থেকে পাঁচটি চোরাই গরু উদ্ধার করে পুলিশ।

আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও উদ্ধার হওয়া গরুগুলোর তাৎক্ষণিক কোনো প্রকৃত মালিক শনাক্ত না হওয়ায় আদালত তাদের রাণীনগর থানা হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জাকারিয়া মন্ডলের তত্ত্বাবধানে এক মাস ধরে চুক্তিবদ্ধ স্থানীয় খামারির মাধ্যমে গরুগুলোর যত্ন নেওয়া হয়। পাশাপাশি উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করে। থানা হেফাজতে থাকাকালীন গর্ভবতী একটি গাভী বাছুরের জন্ম দিলে গরুর সংখ্যা ছয়টিতে দাঁড়ায়, যা স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দেয়।

পরবর্তীতে বাছুরসহ ঐ ছয়টি গরু আজ রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেল ৩টায় রাণীনগর থানা চত্বরে প্রকাশ্যে নিলামের জন্য নির্ধারণ করা হয়। তবে নিলাম প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি তুলে নাটোরের সিংড়া উপজেলার তাজপুর গ্রামের পপি রানী হালদার নামে এক ব্যক্তি আদালতে স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করেন। নওগাঁর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নং-০১-এ আবেদনটি বিচারাধীন থাকায় বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিলাম স্থগিতের বিজ্ঞপ্তি জারি করেন নিলাম বিক্রয় কমিটির সভাপতি ও সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মণ্ডল জানান, আদালতের নির্দেশনা পেয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই নিলাম কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।