কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে রোববার দুপুরে অটোরিকশা ও পিকআপের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। পরে গুরুতর আহতদের কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
নিহতরা হলেন তাড়াইল উপজেলার মিলন মিয়া (৩০), তাঁর পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে জারা মনি এবং হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার রাবেয়া বেগম (৪০)। আহতদের মধ্যে পিয়া ও রবিউল আলমের নাম জানা গেছে। অন্য তিনজনের পরিচয় এখনও অজানা। সকলেই সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, দুপুরে কিশোরগঞ্জ থেকে কটিয়াদীর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে অটোরিকশাটি। চালকসহ মোট সাতজন ছিলেন যাত্রী। বেলা দুইটার দিকে আচমিতা ইউনিয়নের তেবাঘা এলাকায় পৌঁছালে অটোরিকশাটি সামনে থাকা একটি কাভার্ড ভ্যানকে অতিক্রম করার চেষ্টা করে। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপের সাথে ধাক্কা লাগে। সংঘর্ষের তীব্রতায় অটোরিকশাটি সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে এবং উল্টে যায়। এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মিলন ও তাঁর মেয়ে জারা মনি মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় রাবেয়া বেগমকে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন আনিসুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের মাথায় আঘাত লেগেছে।"
বিষয়টি নিশ্চিত করে কটিয়াদী হাইওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) নবী নুর জানান, পিকআপটি জব্দ করা হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার চালককে আটক করা সম্ভব হয়নি। তিনি মুঠোফোনে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অটোরিকশা একটি কাভার্ড ভ্যানকে অতিক্রম করার করার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। পিকআপটি জব্দ করা হয়েছে। তবে এর চালককে আটক করা যায়নি।"