চুয়াডাঙ্গায় পাঁচটি আন্তঃজেলা রুটে বাস চলাচল বন্ধ রাখার কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা ও সমস্যা সমাধানের আশ্বাস পাওয়ায় শনিবার দুপুরের পর থেকে জেলার সকল রুটে যানযাতায়াত স্বাভাবিক রয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুর ২টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বাস ও ইজিবাইক মালিক-শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে প্রশাসনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ইজিবাইক চলাচল সংক্রান্ত নতুন নিয়মকানুন তুলে ধরা হয়। জানা যায়, একটি উপজেলার ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক অন্য উপজেলায় চলাচল করতে পারবে না। এছাড়াও উপজেলা ও পৌরসভাভিত্তিক নির্ধারিত রঙে ইজিবাইক রাঙাতে হবে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নির্ধারিত রং না করলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্ধারিত রং অনুযায়ী চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ইজিবাইকে কমলা, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার (পৌরসভা ব্যতীত) ইজিবাইকে নীল, আলমডাঙ্গা উপজেলায় সবুজ, দামুড়হুদা উপজেলায় খয়েরি এবং জীবননগর উপজেলায় হলুদ রং করতে হবে।
জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এম. জেনারেল বলেন, "ইজিবাইকের রং এবং শ্রমিকদের মারধরের ঘটনায় বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা শেষে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস পাওয়ায় কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন থেকে সড়কে বাস চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।"
জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, "পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হয়েছে এবং বাস চলাচল স্বাভাবিক রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইজিবাইক চালকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।"
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি.এম. তারিক-উজ-জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ বি এম খালিদ হোসেন, পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক শারমিন আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিনহাজ উল-ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক হাজী আবুল কালাম আজাদ, জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মঈনুদ্দিন মুক্তা, জেলা ইজিবাইক রিকশা ও পাখিভ্যান চালক ও মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি আবু সাঈদ, সিনিয়র সভাপতি মঞ্জুরুল হকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
এর আগে, বাস-মিনিবাস শ্রমিকদের ওপর হামলা, মারধর ও বাস আটকে রাখার প্রতিবাদে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে কর্মসূচি পালন শুরু করে চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপ। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার সকাল থেকে চুয়াডাঙ্গা থেকে পাঁচটি রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। অনেক যাত্রী বাস না পেয়ে বাধ্য হয়ে বিকল্প যানবাহনে গন্তব্যে যাতায়াত করেন। পরে শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসেন পরিবহন ও ইজিবাইক মালিক-শ্রমিক নেতারা। প্রশাসনের আশ্বাস এবং ইজিবাইক চলাচল নিয়ন্ত্রণে উপজেলা ও পৌরসভাভিত্তিক সিদ্ধান্তের পর বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়। ফলে চুয়াডাঙ্গার পাঁচটি আন্তঃজেলা রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।