খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার নরেন্দ্র কার্বারীপাড়া এলাকায় এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে নিজ বাসভবন থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে মহালছড়ি থানা পুলিশ। নিহতের নাম নিকা ত্রিপুরা (৩০)।

নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করছেন, নিকাকে ধর্ষণের পর গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে। তবে এই দাবির সত্যতা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

নিহতের ৮ বছর বয়সী মেয়ে শিখা ত্রিপুরা জানান, সকালে সে পাশের গ্রামের নানির বাড়ি থেকে বাড়ি ফেরে। এ সময় মাকে বারবার ডাকলেও কোনো সাড়া পায়নি। ভয় পেয়ে সে স্কুলে চলে যায়। পরে সে জানতে পারে তার মা আর নেই।

স্থানীয় কার্বারী থৈঅংগো মারমার জানান, কিছুদিন আগে স্থানীয় যুবক ও মোটরসাইকেলচালক খোকন ত্রিপুরার সঙ্গে নিকার পরকীয়ার অভিযোগ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে নিকা স্থানীয় নিরঞ্জন কার্বারীর কাছে বিচার চান। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধান হলেও তাদের মধ্যে আবারও যোগাযোগ ছিল বলে তিনি দাবি করেন।

কার্বারী থৈঅংগো মারমা আরও বলেন, শনিবার সকালে নিকার মরদেহের পাশে পড়ে থাকা একটি মোবাইল ফোন খোকন ত্রিপুরা সরিয়ে নিয়ে যান। পরে ওই ফোনের কল হিস্ট্রি ও নম্বরগুলো মুছে ফেলার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়রা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি স্থান ত্যাগ করে চলে যান। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা আনুষ্ঠানিক তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে জানায় পুলিশ।

এদিকে স্থানীয় গ্রামবাসীদের দাবি, নিহতের ঘরে প্রায় ৪ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৭ লাখ টাকা রাখা ছিল। মৃত্যুর পর থেকে ওই সম্পদ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। স্বর্ণ ও টাকা গায়েব হওয়ার বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে।

খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম জানান, ঘটনার খবর পেয়েই মহালছড়ি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্ত শেষ হলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা যাবে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে স্বজনদের তোলা ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ, স্থানীয়দের পরকীয়ার দাবি এবং ঘর থেকে স্বর্ণ ও নগদ টাকা গায়েব হওয়ার বিষয়গুলো আইনি তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।